শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬ | ৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৮ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | রাত ১:৩১:৫৯

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৫
শেয়ার: mail
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন। শপথ অনুষ্ঠানের জন্য এরই মধ্যে বঙ্গভবনের দরবার হল সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে অনেকের মনেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে—বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা কতটুকু এবং তিনি কী কী সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন?

রাষ্ট্রপ্রধান বনাম সরকারপ্রধান

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান এবং দেশের সব নাগরিক ও সাংবিধানিক পদের ঊর্ধ্বে তাঁর স্থান। তবে সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় সরকার পরিচালনার মূল নির্বাহী ক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে। ফলে রাষ্ট্রপতির পদটির আনুষ্ঠানিক মর্যাদা ও সাংবিধানিক গুরুত্ব অপরিসীম হলেও নির্বাহী ক্ষমতার পরিধি তুলনামূলকভাবে সুনির্দিষ্ট ও সীমিত।

সাংবিধানিক ক্ষমতা ও কার্যপরিধি

সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দুটি বিষয়ে রাষ্ট্রপতির একক ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে— ১. প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ (সংবিধানের ৫৬(৩) দফা)।

২. প্রধান বিচারপতি নিয়োগ (সংবিধানের ৯৫(১) দফা)।

এই দুটি ক্ষেত্র ছাড়া অন্য সব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। এ ছাড়া সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আদালত বা ট্রাইব্যুনালের দেওয়া যেকোনো দণ্ড মার্জনা, হ্রাস বা মওকুফ করার সাংবিধানিক এখতিয়ার রয়েছে রাষ্ট্রপতির।

দায়িত্ব পালনে সাংবিধানিক দায়মুক্তি ও অপসারণ

সংবিধানের আওতায় রাষ্ট্রপতি তাঁর দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো আদালতের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন। কার্যকালে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা করা যায় না কিংবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা যায় না। তবে সংবিধান লঙ্ঘন, গুরুতর অসদাচরণ কিংবা শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে সংসদের মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিশংসন বা অপসারণের বিধান সংবিধানে রয়েছে।

মেয়াদ ও শর্তাবলি

রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ কার্যভার গ্রহণের দিন থেকে পাঁচ বছর। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে এ পদে আসীন হতে পারেন। রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর এবং জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হয়। কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সংসদীয় আসনটি শূন্য হয়ে যায়।

বেতন, ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা

‘দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, যা সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত। এছাড়া তিনি যেসব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন—

  • বাসভবন ও পরিবহন: রাষ্ট্রপতির জন্য বরাদ্দ ঐতিহাসিক বঙ্গভবন, যার যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহন করে রাষ্ট্র। সরকারি যাতায়াতে রয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা সংবলিত পরিবহন সুবিধা।

  • চিকিৎসাসেবা: রাষ্ট্রপতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দেশে ও বিদেশে সরকারি ব্যয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ের চিকিৎসাসুবিধা পেয়ে থাকেন।

  • স্বেচ্ছাধীন তহবিল: রাষ্ট্রপতির বিবেচনামূলক সহায়তার জন্য বছরে ২ কোটি টাকার একটি স্বেচ্ছাধীন তহবিল বরাদ্দ থাকে।

  • ভ্রমণ বিমা ও আপ্যায়ন: রাষ্ট্রপতির আপ্যায়ন ভাতার পাশাপাশি বিমানভ্রমণের ক্ষেত্রে বছরে ২৭ লাখ টাকার বিমাসুবিধা নির্ধারিত রয়েছে।

অবসর বা পদত্যাগের পরও সাবেক রাষ্ট্রপতিরা আইন অনুযায়ী পেনশন, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা

বিস্তারিত কমেন্টে