ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত অবসানে নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার দিনে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালী ও আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতিতে ওমান বাধা হয়ে দাঁড়ালে দেশটিতে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে স্পষ্ট করে বলেছেন, তেহরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত জ্যারেড কুশনার ফক্স নিউজকে জানান, দুই দেশের মধ্যে কূটনীতির পথ খোলা থাকলেও দীর্ঘদিনের আস্থার সংকট বড় বাধা। ওয়াশিংটন তাড়াহুড়ো না করে সঠিক ও কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই ৬০ দিনের সময়সীমার দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, চুক্তির প্রাথমিক পর্যায়েই ওয়াশিংটন শর্ত লঙ্ঘন করায় সেই সময়সীমা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে।
এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনা অন্যান্য ফ্রন্টেও ছড়িয়ে পড়েছে। কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে তেহরান ও মাসকাট যৌথ ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে, যার তদন্ত শুরু করেছে বাগদাদ। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একে ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বা সাজানো চক্রান্ত দাবি করে আঞ্চলিক মিত্রদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
লোহিত সাগরেও সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা মোখা উপকূলের কাছে সৌদি সামরিক জাহাজ ও চারটি টহল নৌযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এই সংঘাত। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বেসামরিক প্রাণহানি রোধ ও মানবিক বিপর্যয় এড়াতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অবিলম্বে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
kalprakash.com/IM