পাবনার চাটমোহর উপজেলার ডিকশি বিলে এখন রক্তিম ও গোলাপি শাপলার চোখজুড়ানো সৌন্দর্য। বিলের বিস্তীর্ণ জলরাশি জুড়ে ফুটেছে সারি সারি শাপলা ফুল। দূর থেকে দেখলে মনে হয় সবুজ পাতার বুক জুড়ে বিছিয়ে রাখা হয়েছে বিশাল এক রঙের চাদর। সকালের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই বিলের পানিতে ফুটে থাকা শাপলা আর সবুজ পাতার মেলবন্ধন সহজেই সৌন্দর্যপ্রেমীদের মুগ্ধ করছে।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিলে প্রতিদিন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন শত শত দর্শনার্থী। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে নৌকায় চড়ে বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, তুলছেন ছবি ও সেলফি। নীল আকাশ আর স্বচ্ছ জলের ওপর ভাসমান হাজারো শাপলার এই মিতালী দর্শনার্থীদের বাড়তি আনন্দ যোগাচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় শিশুরা বিল থেকে শাপলা তুলে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছে।
তবে এই অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝে শঙ্কা বাড়াচ্ছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার। বিলপাড়ের পার্শ্বডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বিলে বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারি জাল ফেলার কারণে মাছের পোনা ও শাপলাসহ প্রাকৃতিক জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে বিনষ্ট হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক এস এম মিজানুর রহমান এবং চলনবিল রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর আলম মধু জানান, বর্ষায় ডিকশি বিলের সৌন্দর্য বহুগুণ বেড়ে যায়। তবে এর প্রাকৃতিক সম্পদ, শাপলা ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় দ্রুত সচেতনতা সৃষ্টি এবং ক্ষতিকর জালের ব্যবহার স্থায়ীভাবে বন্ধ করা জরুরি। এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন জানান, ডিকশি বিলে ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে ক্ষতিকর চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়েছে এবং জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
kalprakash.com/IM