ব্যাপক বিমান হামলা ও সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও ধারণাতীত দ্রুতগতিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ সার্বিক অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা পুনর্গঠন করেছে ইরান। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের পূর্বাভাসের চেয়ে বহুগুণ দ্রুতগতিতে তেহরান তাদের সামরিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনায় তেলআবিবে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৬ সালের যুদ্ধ চলাকালে ইরান জুড়ে আড়াই হাজারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক-শিল্প স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রায় ৩০ হাজার বিমান হামলা চালায়। সে সময় ওয়াশিংটন ও তেলআবিব দাবি করেছিল, ইরানের সমরাস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে পঙ্গু হয়ে গেছে। তবে বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভূগর্ভস্থ কারখানাগুলোর ধ্বংসাবশেষ দ্রুত অপসারণ করে তেহরান প্রত্যাশার চেয়ে অনেক আগেই পুনরায় পুরোদমে উৎপাদন শুরু করেছে। এর আগেও ২০২৪ ও ২০২৫ সালের হামলার পর একই ধরনের দ্রুতগতির প্রত্যাবর্তনে হতবাক হয়েছিল তেলআবিব।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি প্রতি মাসে ১০০ থেকে ৩০০টি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির গতি বজায় রাখে, তবে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই তাদের পূর্বের মজুত পুনরুদ্ধার করে ফেলবে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে তারা আগের চেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিতে পরিণত হতে পারে।
এ পরিস্থিতি তেলআবিবকে গভীর কৌশলগত দ্বিধায় ফেলে দিয়েছে। বিশেষ করে সাবেক মার্কিন প্রশাসনের অগ্রাধিকার পরিবর্তন ও পারমাণবিক কর্মসূচির বাইরে ইরানের প্রচলিত ব্যালিস্টিক অস্ত্রের পুনর্গঠন রুখতে ইসরায়েল নতুন কোনো আগ্রাসনের পথ বেছে নেবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
kalprakash.com/IM