ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানাধীন এলাকায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে চরম অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। কোনো একাডেমিক সনদ না থাকা সত্ত্বেও তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচন, আবেদনকারী ৯ জন থাকা সত্ত্বেও ১০ নম্বর সিরিয়াল থেকে ফল প্রকাশ এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট রুহিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি এর ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই পরীক্ষার্থী ও স্থানীয় বেকার যুবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ফেসবুকে “রুহিয়া উপজেলা ফ্যামিলি পরীক্ষা ভুয়া, রেজাল্ট মানি না মানব না” স্লোগান তুলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানানো হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজাগাঁও ইউনিয়নে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সনদ না থাকা সত্ত্বেও আলী আকবর নামের এক ব্যক্তিকে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই ইউনিয়নে সুপারভাইজার পদে ৯ জন আবেদন করলেও ফলাফলে ১০ নম্বর ক্রমিকে থাকা প্রার্থীকে চূড়ান্ত দেখানো হয়েছে। ১ নম্বর রুহিয়া ও রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়ন থেকে একাধিক যোগ্য প্রার্থী আবেদন করা সত্ত্বেও শুধু রাজাগাঁও ইউনিয়ন থেকেই রহস্যজনকভাবে দুজনকে সুপারভাইজার ও একজনকে অপেক্ষমাণ তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
অনিয়মের বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর ও রুহিয়ার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সারওয়ার মুরশিদ বলেন, ‘সুপারভাইজার পদে মহসিন নামের প্রার্থীর আবেদনপত্র জমা থাকলেও কারিগরি ত্রুটির কারণে তাৎক্ষণিক সিরিয়াল ছিল না, পরে তা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সনদ জালিয়াতি বা বিতর্কিত কারো ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তা পুনর্বিবেচনা করা হবে।’
রুহিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন জানান, ‘এ নিয়োগ কার্যক্রম আগের ইউএনও মহোদয়ের সময়ে সম্পন্ন হয়েছিল। ফলাফল শিটে কোনো অসঙ্গতি বা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তা সংশোধন করা হবে।’
kalprakash.com/IM