অনুকূল আবহাওয়া, বাম্পার ফলন এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় চুয়াডাঙ্গায় কৃষকদের মাঝে পাট চাষে আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। চলতি মৌসুমে জেলার মাঠজুড়ে সোনালি আঁশ পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় চলতি মৌসুমে ২৫ হাজার ৫৭৮ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২২০ কোটি টাকা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, জেলার চারটি উপজেলায় চলতি মৌসুমে মোট ৯ হাজার ১৩৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৪৩৫ হেক্টর বেশি। কৃষকেরা মূলত উচ্চফলনশীল জেআরও-৫২৪ এবং বিজেআরআই তোষা পাট-৮ জাতের আবাদ করেছেন। হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৮ মেট্রিক টন।
কৃষকরা জানান, এ বছর নিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি থাকায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে কোনো ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছ বেশ লম্বা ও পুষ্ট হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে পাট উৎপাদনে কৃষকদের ১৪ থেকে ১৭ হাজার টাকা খরচ হলেও বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারে পাটকাঠির ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাড়তি লাভের আশা করছেন চাষিরা।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের নিয়মিত পরামর্শে পাটের চমৎকার ফলন হয়েছে। বাজারে পাটের দাম স্থিতিশীল থাকায় কৃষকেরা ভালো লাভবান হবেন। এ বছর জেলাজুড়ে উৎপাদিত পাটের বাজারমূল্য প্রায় ২২০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
kalprakash.com/IM