শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ | ১৩ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৫ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | ভোর ৫:৩৩:৫৪

বাংলাদেশ কি পাকিস্তানি গাড়ির নতুন পরীক্ষামূলক বাজার?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০১
শেয়ার: mail
বাংলাদেশ কি পাকিস্তানি গাড়ির নতুন পরীক্ষামূলক বাজার?

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি ‘এমজি জেডব্লিউ অটোমোবাইল পাকিস্তান’ এবং বাংলাদেশের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর দেশের মোটরযান খাতে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরেই পাকিস্তান থেকে ১০০টি গাড়ি আমদানি করা হবে এবং আগামী চার বছরে এই সংখ্যা ৫ হাজার ৮০০ ইউনিটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই উদ্যোগের পর দেশের অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—বাংলাদেশ কি কেবল পাকিস্তানি গাড়ির একটি বড় পরীক্ষামূলক বাজার হয়ে উঠছে, নাকি ক্রেতারা সত্যিই লাভবান হবেন?

কূটনৈতিক ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের গাড়ি শিল্প সম্প্রসারণের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় সুযোগ। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রধান বিবেচনা হওয়া উচিত গাড়ির মান, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, স্থায়ীত্ব এবং বিক্রয়োত্তর সেবা। যেকোনো দেশ থেকে গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে দেশের বাজারে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যেন ভারত, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড বা ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশের সাথে বাণিজ্যিক তুলনা করে ক্রেতারা সেরা সুবিধা পেতে পারেন।

পাকিস্তানে অটোমোটিভ খাতের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এখনও বিকাশমান। ২০২৫ সালের এক সংসদীয় প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়, সেখানে অটোমোবাইল সংযোজনকারীরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ২০০টি নিরাপত্তা মানদণ্ডের মধ্যে মাত্র ১৮টি মেনে চলে। এই অবস্থায় ঢালাও আশ্বাসের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি মডেলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও কারিগরি মানদণ্ড কঠোরভাবে পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক অটোমোটিভ সাপ্লাই চেইনের হিসেবে ‘মেড ইন পাকিস্তান’ ট্যাগ থাকলেও গাড়ির মূল ইঞ্জিনিয়ারিং বা মূল যন্ত্রাংশ কতটুকু নিরাপদ—তা যাচাই করা আবশ্যক। এয়ারব্যাগ, এবিএস (ABS), ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল এবং ক্র্যাশ-টেস্টে গাড়িগুলোর স্কোর পর্যবেক্ষণ করেই আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

পাকিস্তানের সেনেটে উপস্থাপিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত তিন অর্থবছরে দেশটি বিশ্বের ২০টি দেশে মাত্র ৪৩৪টি গাড়ি রপ্তানি করেছে। সেই হিসেবে বাংলাদেশে একবারে ৫ হাজার ৮০০টি গাড়ি রপ্তানির চুক্তি পাকিস্তানের গাড়িবাজারের জন্য তুলনামূলকভাবে অনেকটাই আগ্রাসী পদক্ষেপ। তাই বাংলাদেশের উচিত প্রথম চালানের গাড়িগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে ডেটা সংগ্রহ করা।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, আমদানি নীতির পাশাপাশি বাংলাদেশকে নিজস্ব অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে। শুধু তৈরি গাড়ি আমদানিতে সীমাবদ্ধ না থেকে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে অ্যাসেম্বলিং বা সংযোজন কারখানা স্থাপন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং স্থানীয়ভাবে স্পেয়ার পার্টস তৈরিতে বাধ্য করতে হবে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনীতি ও অটোমোবাইল খাতের সুরক্ষায় মুখ্য ভূমিকা রাখবে। (সোর্স: কালের কণ্ঠ)

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

বাংলাদেশ কি পাকিস্তানি গাড়ির নতুন পরীক্ষামূলক বাজার?

বিস্তারিত কমেন্টে