বিশ্ববাজারে গত দুই মাসের সর্বোচ্চ শিখর স্পর্শ করার পর হঠাৎ টান পড়েছে মূল্যবান ধাতু সোনার দামে। আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর দর যেভাবে লাফিয়ে বেড়েছিল, বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার হিড়িকে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিশ্ববাজারে আবার সোনার দামে পতন লক্ষ্য করা গেছে।
বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সোনার দাম ১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে গত ৫ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায় ওঠে। তবে সে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টার দিকে স্পট সোনার দাম আউন্সপ্রতি ০.৮ শতাংশ কমে ৪,৩৭৪.০৩ ডলারে নেমে আসে। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বরের ফিউচার বাজারে সোনার দাম ০.৮ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪,৪৩০.৮০ ডলারে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারারের মতে, কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বা সিপিআই প্রকাশের পর সোনার দামে যে বড় উল্লম্ফন হয়েছিল, পরবর্তীতে ব্যবসায়ীরা মুনাফা তুলে নেওয়ায় বাজার এখন স্বাভাবিক স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা এখন পরবর্তী উৎপাদক মূল্যসূচকের (পিপিআই) রিপোর্টের ওপর নজর রাখছেন, যার ওপর ভিত্তি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
দেশীয় মুদ্রায় সোনার আনুমানিক দর:
আন্তর্জাতিক বাজারে এক ট্রয় আউন্স (৩১.১০৩৫ গ্রাম) স্পট সোনার দাম ৪,৩৭৪.০৩ ডলার হিসাব করলে প্রতি ভরির (১১.৬৬৪ গ্রাম) ভিত্তি মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১,৬৪০ ডলার। প্রতি ডলার ১২৩.২০ টাকা বিনিময় হারে হিসাব করলে আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী এক ভরি খাঁটি (২৪ ক্যারেট) সোনার দাম দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ২ হাজার টাকা।
তবে স্থানীয় বাজারে ভ্যাট, আইনানুগ শুল্ক, পরিবহন খরচ ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের মজুরি যুক্ত হওয়ায় দেশের খুচরা বাজারে সোনার আসল দর এর চেয়ে কিছুটা বেশি হতে পারে।
এদিকে সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দরও কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম আউন্সপ্রতি ০.৯ শতাংশ কমে ৬৪.৭৩ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনাম ১.৫ শতাংশ কমে ১,৭২৯.৯৩ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১,৩৪৫.৩৭ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।
kalprakash.com/IM