পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী কোনো শিক্ষার্থীই কৃতকার্য হতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্যের এই ফলাফলের পর বিভিন্ন মাধ্যমে ঢালাওভাবে শিক্ষকদের ওপর দায় চাপানো হলেও মাঠপর্যায়ের সরেজমিন অনুসন্ধান বলছে ভিন্ন কথা। কেবল শিক্ষকদের দোষারোপ করার আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো, সামাজিক অবক্ষয়, অভিভাবকত্বের সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা।
সরেজমিনে পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এই অভূতপূর্ব ফল বিপর্যয়ের একাধিক নেপথ্য ও গভীর কারণ সামনে এসেছে।
বিদ্যালয়টির প্রধান শ্রেণিকক্ষ ও প্রশাসনিক ভবন চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সবচেয়ে বড় বিপত্তি হলো, পুরো ক্যাম্পাসে নেই কোনো সীমানা প্রাচীর বা বাউন্ডারি ওয়াল। উন্মুক্ত পরিবেশের সুযোগ নিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রথম এক-দুটি ক্লাস শেষেই শিক্ষকদের নজর এড়িয়ে স্কুল থেকে পালিয়ে যায়।
শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে শিক্ষকেরা ফোন করে অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও অধিকাংশ সময় তাঁরা ফোন ধরেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার পড়ালেখার স্বার্থে কোনো শিক্ষার্থীকে শাসন করা হলে অভিভাবকেরা উল্টো বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকদের সাথে চড়াও হন ও অপমানজনক আচরণ করেন, যা শিক্ষকদের স্বাভাবিক পাঠদান ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল জানান, একসময় শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীরা পড়া প্রস্তুত করে বাড়ি ফিরত। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের শাসনের অধিকার সীমাবদ্ধ হয়ে পড়া এবং বাসায় পারিবারিক সঠিক নজরদারির অভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মোবাইল গেম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবহারে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় বিষয়ের শিক্ষক পদে শূন্যতা থাকায় নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার সঠিক পরিবেশ ফেরাতে কেবল একতরফাভাবে শিক্ষকদের অভিযুক্ত না করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ এবং অভিভাবকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার, স্থানীয় সমাজ ও অভিভাবকদের সম্মিলিত পদক্ষেপই পারে পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে।
kalprakash.com/IM