দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বার্ষিক সামরিক মহড়া শুরুর ঠিক আগেভাগে জাপান সাগরের (পূর্ব সাগর) দিকে ৭০০ কিলোমিটার পাল্লার একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে পিয়ংইয়ংয়ের এটি দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর বরাতে এই উত্তপ্ত সামরিক তৎপরতার খবর পাওয়া গেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বাহিনী প্রধান বা জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ সাংবাদিকদের এক বার্তায় নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে উত্তর কোরিয়ার ওনসান অঞ্চল থেকে পূর্ব সাগরের অভিমুখে নিক্ষিপ্ত শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে শনাক্ত করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর হিসেব অনুযায়ী, নিক্ষিপ্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশে প্রায় ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করেছে। পিয়ংইয়ংয়ের এমন একের পর এক সামরিক উসকানির প্রেক্ষাপটে আকাশ ও সমুদ্রসীমায় সর্বোচ্চ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে উৎক্ষেপণ সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য ওয়াশিংটন ও টোকিওর সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে আদান-প্রদান করছে সিউল।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপের পর জাপান সাগরে পতিত হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর কোরিয়া বিষয়ক প্রখ্যাত গবেষক লিম উল-চুল মন্তব্য করেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে কখনই প্রতিক্রিয়া ছাড়া যেতে দেয় না উত্তর কোরিয়া। আসন্ন সামরিক মহড়াকে পিয়ংইয়ং কতটা গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপে যেতে যে প্রস্তুত—এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা তারই একটি স্পষ্ট আগাম বার্তা।”
kalprakash.com/IM