শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬ | ৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৭ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | রাত ১:১১:৪১

৯ শিক্ষা বোর্ডের ৫৭ প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস, তালিকায় শীর্ষে দিনাজপুর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৩
শেয়ার: mail
৯ শিক্ষা বোর্ডের ৫৭ প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস, তালিকায় শীর্ষে দিনাজপুর

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ ৫৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪৮টি। এক বছরের ব্যবধানে শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯টি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের প্রান্তিক ও অনগ্রসর অঞ্চলগুলোর শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শূন্য পাসের তালিকায় সবচেয়ে করুণ চিত্র দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের অধীনে রংপুর বিভাগের ৮ জেলার ১৮টি বিদ্যালয় থেকে ১২৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও একজন শিক্ষার্থীও কৃতকার্য হতে পারেনি।

অন্যান্য বোর্ডের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়—যশোর শিক্ষা বোর্ডে ১১টি, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ৮টি, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ৬টি, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ৫টি, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ৫টি এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের ৪টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ১৮টি প্রতিষ্ঠান:

রংপুরের পীরগঞ্জের কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও গাসিপুর উচ্চ বিদ্যালয়; গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরের উত্তর দামোদরপুর কাজীপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও পলাশবাড়ীর মনোহারপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়; নীলফামারীর ডোমারের আমবাড়ী বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়; কুড়িগ্রামের রাজারহাটের তালতলা উচ্চ বিদ্যালয়, ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, সদর উপজেলার পূর্ব কুমারপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও ভূরুঙ্গামারীর পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়; লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের এএম রাথবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়; দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়; ঠাকুরগাঁও সদরের আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, অনভারডিঘি উচ্চ বিদ্যালয়, মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তাওরিগাঁ উচ্চ বিদ্যালয় ও হরিপুরের রামপুর ভাতুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়; এবং পঞ্চগড়ের বোদার বালারামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের ১১টি প্রতিষ্ঠান:

সাতক্ষীরার নাইশা মাধ্যমিক স্কুল, আশাশুনির গোদারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শ্যামনগরের সাহেবখালী সিদ্দিক গাজী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দেবহাটার বাবুরাবাদ ধাপুখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়; খুলনার ডুমুরিয়ার কাটেঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খালিশপুরের আসমা সরোয়ার ইসলামিক হাইস্কুল; বাগেরহাটের শরণখোলার ডি এন একতা গার্লস হাইস্কুল; যশোরের মনিরামপুরের চানদুয়া সমাসকাটি গার্লস হাইস্কুল, হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি মাধ্যমিক গার্লস স্কুল, শার্শার সারাতলা জুনিয়র গার্লস হাইস্কুল এবং মুক্তিযোদ্ধা জি কে জি এস মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ৮টি প্রতিষ্ঠান:

ফটিকছড়ির নারায়নহাট গার্লস হাইস্কুল; সন্দ্বীপের উরিরচর জুনিয়র হাইস্কুল; রাঙামাটির বরকলের আন্দরমানিক (মাইছছড়ি) জুনিয়র হাইস্কুল, লংগদুর মহালছড়ি হাইস্কুল, বাঘাইছড়ির শিলজাক দজার বাজার জুনিয়র স্কুল; খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়া গার্লস হাইস্কুল, দীঘিনালার জারুলছড়ি হেডম্যানপাড়া হাইস্কুল এবং তারাবানিয়া হাইস্কুল।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ৬টি প্রতিষ্ঠান:

টাঙ্গাইলের নাগরপুরের সলিমাবাদ আনোয়ার খান মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, ভূঞাপুরের গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়; রাজবাড়ীর পাংশার বনগ্রাম আতারুননেসা উচ্চ বিদ্যালয়, রাজবাড়ী সদরের জালদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়; কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার জঙ্গলিয়া ইউনিয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং বিদেশে পরিচালিত ‘বাংলাদেশের দোয়েল একাডেমি’।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ৫টি প্রতিষ্ঠান:

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর পাকড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বাঘার বানিয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, মোহনপুরের আমরাইল উচ্চ বিদ্যালয়; নওগাঁর নিয়ামতপুরের পাইলানপুর উচ্চ বিদ্যালয় এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবির শিরট্টি ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ৫টি প্রতিষ্ঠান:

ঝালকাঠি সদরের সাওরাকাঠি নব আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাঠালিয়ার বানাই রাবেয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়; পিরোজপুর সদরের পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়; বরিশালের বাকেরগঞ্জের কেরামত গায়জাউদ্দীন নূরমোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় এবং মেহেন্দিগঞ্জের পশ্চিম রতনপুর পঙ্কজ দেবনাথ উচ্চ বিদ্যালয়।

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের ৪টি প্রতিষ্ঠান:

জামালপুরের সরিষাবাড়ীর চাপারকোনা মোনিয়া আবুল গার্লস হাইস্কুল, ইসলামপুরের কাদামতলী করিপাড়া হাইস্কুল; ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ফুলবাড়িয়ার শহীদ স্মৃতি গার্লস হাইস্কুল।

শিক্ষাবিদদের মতে, অবকাঠামোগত সমস্যা, মানসম্মত শিক্ষকের অভাব এবং নিয়মিত পাঠদানের ঘাটতির কারণে প্রান্তিক ও অনগ্রসর এলাকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের তদারকি বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

৯ শিক্ষা বোর্ডের ৫৭ প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস, তালিকায় শীর্ষে দিনাজপুর

বিস্তারিত কমেন্টে