বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বাংলাদেশের আহূত আন্তর্জাতিক দরপত্রে বহুজাতিক কম্পানিগুলোর সাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে। পেট্রোবাংলা থেকে তথ্য প্যাকেজ (ইনফরমেশন প্যাকেজ) সংগ্রহ করেছে সাতটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এবং আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বিডিং ডকুমেন্ট কিনেছে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান টার্কিশ পেট্রোলিয়াম ওভারসিজ কম্পানি (টিপিএও)।
গেল ২৪ মে ‘অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬’ শীর্ষক এ আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে পেট্রোবাংলা। এতে গভীর ও অগভীর সমুদ্রের মোট ২৬টি ব্লকে অনুসন্ধানের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ নভেম্বর।
বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে উৎপাদন অংশীদারি চুক্তিতে (পিএসসি) যৌক্তিক পরিবর্তন ও বাণিজ্যিকভাবে অতিরিক্ত সুবিধা যুক্ত করেছে সরকার। সংশোধিত পিএসসি অনুযায়ী গভীর সমুদ্রে গ্যাসের দর ব্রেন্ট ক্রুডের ১১ শতাংশ এবং অগভীর সমুদ্রে ১০.৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ঠিকাদারি কম্পানির মাধ্যমে সমুদ্রগর্ভে পাইপলাইন নির্মাণ ও ট্যারিফ ব্যবস্থা নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এক্সনমবিল ও ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের (বিপি) সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালে দরপত্র আহ্বান করা হলেও কোনো প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব জমা দেয়নি। তবে সে সময়ের বিদেশি সংস্থাগুলোর লিখিত পর্যবেক্ষণ বিবেচনায় এনে এবারের পিএসসিতে নীতিগত সংস্কার আনায় ইতিবাচক সাড়া মিলছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত পৃথক বক্তব্যে জানান, জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখে এবং নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বহুমাত্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতেই সরকার সমুদ্রভাগে অনুসন্ধানের এই বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
বর্তমানে দেশে মাত্র ৭.৬৩ টিসিএফ গ্যাসের মজুদ অবশিষ্ট থাকায় এবং এলএনজি আমদানিতে বিপুল ভর্তুকি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বিডিং রাউন্ডকে দেশের জ্বালানি খাতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
kalprakash.com/IM