সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬ | ১৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১৮ সফর, ১৪৪৮ | রাত ১০:৫৪:০১

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ‘যুদ্ধাপরাধীদের’ বিলবোর্ড সরালো রাবি প্রশাসন

হ্লাথোয়াইছা চাক, রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১:২৩
শেয়ার: mail
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ‘যুদ্ধাপরাধীদের’ বিলবোর্ড সরালো রাবি প্রশাসন

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিলবোর্ড থেকে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি মুছে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রোববার (২ আগস্ট) রাতে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ (বিচারিক হত্যা) শিরোনামের ছবিগুলো সরানো হয়।

এর আগে গত শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে ‘নভোকালচার’ নামে একটি সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামের বিলবোর্ডটি টানানো হয়। প্ল্যাটফর্মটির পরিচালক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার।

প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, পোস্টারটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করছে। তাই আমার পক্ষ থেকে নভোকালচারের পরিচালক ও রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে সরিয়ে নিতে বলেছি। তবে নভোকালচার কর্তৃপক্ষ প্রথমে জানিয়েছিল, তারা পোস্টারটি সরাবে না।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে—যেসব ছবি নিয়ে আপত্তি, সেগুলো রাতের মধ্যেই মুছে বা ঢেকে দেওয়া হবে।

পোস্টারটি অপসারণের দাবিতে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। পরে ক্যাম্পাসের কয়েকটি ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন কর্মসূচিতে যোগ দেয়। রাত ১০টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বৈঠক হয়। প্রশাসন ছবি সরানোর কথা বললেও নভোকালচারের পরিচালক সালাউদ্দিন আম্মার রাজি হননি। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাতেই ছবিগুলো মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত দেওয়া হলে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি স্থগিত করেন।

ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়ার শুভ বলেন, একাত্তরের ইস্যু অনেক আগেই মীমাংসিত। শহীদ ড. শামসুজ্জোহার কবরের পাশে রাজাকারের ছবি টানানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কয়েক দফা আলোচনার পর প্রশাসন আমাদের জানায়, চিহ্নিত রাজাকারদের ছবি অপসারণ করা হবে। প্রক্টরের আশ্বাসে আমরা আপাতত আন্দোলন স্থগিত করেছি।

গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, শেখ হাসিনা বা ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান কোনোটিকেই আড়াল করার সুযোগ নেই। কিন্তু চব্বিশের আয়োজনকে কেন্দ্র করে সুকৌশলে একাত্তরের ঘাতক ও দালালদের স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সেখানে গোলাম আযমের মতো ব্যক্তিদের গৌরবান্বিত করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward