সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬ | ১৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১৮ সফর, ১৪৪৮ | রাত ৯:৪৪:৪২

রাবিতে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ বিলবোর্ড, শিক্ষার্থীদের সমালোচনা

রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৮
শেয়ার: mail
রাবিতে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ বিলবোর্ড, শিক্ষার্থীদের সমালোচনা

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্যারিস রোডে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামে একটি বিলবোর্ড প্রদর্শনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) নব-কালচার নামের একটি সংগঠন বিলবোর্ডটি প্রদর্শন করে। এতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত কয়েকজন ব্যক্তির ছবি থাকায় শিক্ষার্থীদের একাংশ এর সমালোচনা করেছেন।

নব-কালচার একটি শিক্ষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক সামাজিক সংগঠন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সংগঠনটির কার্যক্রম শুরু হয়। এর পরিচালক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার।

বিলবোর্ডে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মীর কাসেম আলী, মতিউর রহমান নিজামী, আব্দুল কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি স্থান পায়। তাঁদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হয় এবং বিভিন্ন মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

বিলবোর্ডটি প্রদর্শনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। রাবি পরিবার ও রাবি সংসদ নামে ফেসবুক গ্রুপেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী হাসান মারুফ বলেন, ১৯৭১ সালে আল-বদর ও রাজাকার বাহিনীর চিহ্নিত সদস্যদের আমরা ঘৃণাভরে স্মরণ করি। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। তাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শন বা তাঁদের ঘিরে বিতর্কিত ন্যারেটিভ তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, নব-কালচারের প্রতিষ্ঠাতা রাকসুর সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় এখানে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্নও উঠেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু বলেন, দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন, প্রচারপত্র বিতরণ এবং দলীয় কর্মসূচি পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি আমাদের কাছে অত্যন্ত দুঃখজনক। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে অতীতের অপ্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক ইস্যু জুড়ে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা আমরা দেখি না। এটি কেবল রাজনৈতিক বিভাজন ও উত্তেজনা সৃষ্টি করার একটি অপচেষ্টা বলে মনে করি। যুদ্ধাপরাধের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়কে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপনেরও চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, যেই এ ধরনের উদ্যোগ নিক না কেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কিংবা বাংলাদেশের কোথাও রাজাকারদের কোনো ধরনের স্বাভাবিকীকরণ (নরমালাইজেশন) আমরা মেনে নেব না। যুদ্ধাপরাধের প্রশ্নটি বাংলাদেশের মৌলিক জাতীয় ইস্যু। ২০২৪ সালের আন্দোলন কিংবা শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে যুদ্ধাপরাধী মতাদর্শ বা তাঁদের পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪-কে আশ্রয় করে জামায়াত-শিবির তাদের রাজনীতি ও আদর্শকে স্বাভাবিকভাবে প্রতিষ্ঠার যে চেষ্টা করছে, আমরা তার বিরোধিতা করছি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি বিতর্কিত বিলবোর্ডটি দ্রুত অপসারণ করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

রাকসুর সহ-সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, এ বিষয়ে আমার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেননি। আমার ধারণা, বিলবোর্ডে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। তবে এতে রাকসুর কোনো অর্থ বা সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই।

এদিকে রাকসুর জিএস ও সংগঠনটির পরিচালক সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, আমাদের বিলবোর্ডের মূল বিষয় ছিল জুডিশিয়াল কিলিং। অর্থাৎ, রাজনৈতিক প্রভাবে পরিচালিত বিচার ও মৃত্যুদণ্ডের প্রশ্নটি তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম, খুন, আয়নাঘর, শাপলা হত্যাকাণ্ড এবং বিচারব্যবস্থা নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটেই বিলবোর্ডটি তৈরি করা হয়েছে। সেখানে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ কয়েকজনের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। উদ্দেশ্য কাউকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া নয়; বরং তাঁদের বিচার ও মৃত্যুদণ্ড রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ছিল কি না, সেই প্রশ্নটি তুলে ধরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। কেউ আমাকে জানায়নি। তবে আমরা বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি।

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward