সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬ | ১৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১৮ সফর, ১৪৪৮ | রাত ১১:৫৩:৩৯

পাঁচ হিন্দু পরিবারের বাড়িতে সেভেন স্টারের চাঁদা দাবির চিঠি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার হুমকি

মিজানুর রহমান, নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৫
শেয়ার: mail
পাঁচ হিন্দু পরিবারের বাড়িতে সেভেন স্টারের চাঁদা দাবির চিঠি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার হুমকি

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

নাটোরের লালপুরে একটি গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাঁচটি পরিবারের বাড়িতে সেভেন স্টার নামে একটি গোষ্ঠীর পরিচয়ে চাঁদা দাবির হুমকিমূলক চিঠি রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। চিঠিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা করে পরিশোধ না করলে পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) রাতে উপজেলার লালপুর ইউনিয়নের বাকনাই গ্রামের পালপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাকনাই গ্রামের পালপাড়ায় প্রায় ৫৫টি হিন্দু পরিবারের বসবাস। শনিবার রাত ১১টার দিকে নারায়ণ কুমার পালের বাড়ির বারান্দায় তাঁর ছেলে অরুণ কুমার পাল একটি প্রিন্ট করা চিঠি দেখতে পান। পরে বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানালে জানা যায়, অজামিল পাল, সুব্রত পাল, অধির পাল ও ষষ্ঠী পালের বাড়িতেও একই ধরনের চিঠি রাখা হয়েছে।

চিঠিতে সেভেন স্টার কর্তৃপক্ষ পরিচয়ে লেখা হয়, আপনাদের বাড়িতে একটি চিঠি দিলাম। আশা করি, কোনো বিকল্প চিন্তা করবেন না। মনে রাখবেন, জীবন গেলে যাবে আপনাদের পরিবারের। ভালোয় ভালোয় ২০ হাজার টাকা দিয়ে দেবেন।

চিঠিতে নির্দিষ্ট একটি বিকাশ নম্বরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাকা পাঠাতে বলা হয়। একই সঙ্গে হুমকি দিয়ে বলা হয়, বিষয়টি কাউকে জানালে পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে লাশ রাস্তায় ফেলে রাখা হবে। এ ছাড়া এলাকার সব হিন্দু পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

ঘটনার পর থেকেই পালপাড়ার হিন্দু পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

লালপুর উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি দীপেন্দ্রনাথ সাহা বলেন, বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। অন্যথায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের আতঙ্ক কাটবে না বলেও মন্তব্য করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার রাতেই লালপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং হুমকিমূলক চিঠিগুলো জব্দ করে। চিঠিতে উল্লেখ করা বিকাশ নম্বরটি সিলেট অঞ্চলের বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে নম্বরটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। চিঠি জব্দ করা হয়েছে এবং এর উৎস শনাক্তে কাজ চলছে। চিঠিতে উল্লেখিত নম্বরটি সিলেট এলাকার হলেও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward