মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬ | ১৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১৯ সফর, ১৪৪৮ | রাত ২:২৩:০০

নওগাঁয় সরকারি গম বিক্রি করে নিম্নমানের গমে আটা সরবরাহের অভিযোগ

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫৯
শেয়ার: mail
নওগাঁয় সরকারি গম বিক্রি করে নিম্নমানের গমে আটা সরবরাহের অভিযোগ

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁয় খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয় (ওএমএস) কার্যক্রমের গম পেষাইকারী তালিকাভুক্ত ডিলার ‘মেসার্স মদিনা ফ্লাওয়ার মিল’-এর বিরুদ্ধে সরকারি ভালো মানের গম খোলাবাজারে বিক্রি করে নিম্নমানের গম দিয়ে আটা তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শহরের ৫ জন বাসিন্দা। অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রককে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর। অভিযোগকারীরা হলেন—নওগাঁ শহরের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম সোহাগ, মো. সবুজ হোসেন, আলম হোসেন, আব্দুর রশিদ ও আব্দুর রকিব।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওএমএস কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মেসার্স মদিনা ফ্লাওয়ার মিল প্রতি মাসে খাদ্য গুদাম থেকে প্রায় ১৪৫ টন সরকারি গম বরাদ্দ পায়। বরাদ্দকৃত সরকারি গম উন্নত মানের হওয়ায় মিল কর্তৃপক্ষ তা চড়া দামে অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে অন্য কোনো উৎস থেকে সংগৃহীত নিম্নমানের বা পচা গম ভাঙিয়ে আটা তৈরি করে ওএমএস ডিলারদের কাছে সরবরাহ করা হয়। এই আটার মান নিয়ে প্রতিবাদ জানালে মিল মালিক পক্ষ গ্রাহক ও অভিযোগকারীদের সাথে দুর্ব্যবহার এবং হুমকি প্রদান করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

সরেজমিনে শহরের আরজি-নওগাঁ এলাকায় অবস্থিত মেসার্স মদিনা ফ্লাওয়ার মিলে গিয়ে দেখা যায়, খাদ্য গুদাম থেকে সরবরাহ করা চটের বস্তার ভালো মানের গমের পাশে খোলা ও প্লাস্টিকের বস্তায় নিম্নমানের কালো গম স্তূপ করে রাখা রয়েছে।

অভিযোগকারী শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “মদিনা ফ্লাওয়ার মিল থেকে যেসব আটা সরবরাহ করা হয় তা একেবারেই খাওয়ার অনুপযোগী। সাধারণ ভোক্তারা চরম ক্ষুব্ধ। অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আমাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছি এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

তবে অভিযোগটি ভিত্তিহীন দাবি করে মেসার্স মদিনা ফ্লাওয়ার মিলের মালিক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “খাদ্য গুদাম থেকে প্রতিকেজি ১৯ টাকা দরে গম কিনে আটা বানিয়ে ২১ টাকা ৫০ পয়সায় ডিলারদের কাছে দেওয়া হয়। বাজার থেকে আমরা যেসব উন্নত মানের আমদানি করা গম আনি সেগুলোর দাম অনেক বেশি, তাই সরকারি গম বেচে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য।”

এ বিষয়ে নওগাঁ সদর উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, “সদর উপজেলায় ওএমএস ডিলারদের মাধ্যমে প্রতিদিন ২৪ টাকা কেজি দরে ভোক্তাদের কাছে আটা বিক্রি হয়। আমরা ডিও অনুযায়ী মিলারদের গম সরবরাহ করি। মিল থেকে ডিলারদের কী মানের আটা দেওয়া হচ্ছে তা তদারকি করা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়ের সত্যতা জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ফরহাদ খন্দকারকে কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি এবং মুঠোফোনেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম কায়ছার আলী জানান, খাদ্য অধিদপ্তর থেকে তদন্ত সংক্রান্ত কোনো চিঠি এখনো তাঁর হাতে পৌঁছায়নি। চিঠি পেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward