মার্কিন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৌশলগত বুশেহর বিমানবন্দরটি সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, হামলায় অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষতির কারণে বিমানবন্দরটি পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ (IRNA)-র বরাতে জানা গেছে, মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি সম্প্রতি বুশেহর প্রদেশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দর এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমদের পরিদর্শনের সময় সম্প্রতি কেনা এবং জনগণের সেবায় নিয়োজিত একটি যাত্রীবাহী বিমানের ধ্বংসাবশেষ দেখেছি, যা সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমানে বিমানটির লেজের একটি ছোট অংশ ছাড়া আর কিছুই অক্ষত নেই।”
তবে হামলাটি ঠিক কখন চালানো হয়েছিল কিংবা বিমানবন্দরে অবকাঠামোগত অন্যান্য ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেননি।
মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুশেহর বিমানবন্দর ছাড়াও মার্কিন হামলায় সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশের ইরানশাহর, উত্তর ইরানের সেমনান এবং দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর আব্বাস বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি বুশেহরের আবহাওয়া কেন্দ্রটিকেও সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
সাধারণ মানুষের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরে মোহাজেরানি বলেন, সংঘাতের কারণে বেসামরিক অবকাঠামোর পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্যজীবী, ট্রলার এবং পর্যটন খাতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। তিনি জানান, চলমান সংঘাতের সময় হামলায় ১২টি সেতু, দুটি সুড়ঙ্গ, বন্দর আব্বাসের প্রধান রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ৩৫০ জন সরকারি কর্মচারী নিহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ১৩ দিনের তীব্র উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধের ঘোষণা আসায় গত শুক্রবার থেকে অঞ্চলে কিছুটা শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দাবি, তারা ইরানের অভ্যন্তরে মূল সামরিক পরিকাঠামো, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র এবং সরবরাহ লাইন লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। অন্যদিকে তেহরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি ও আল জাজিরা
kalprakash.com/IM