ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় চলমান আলিম পরীক্ষা-২০২৬ চলাকালে শিক্ষার্থীদের নকল সরবরাহের অভিযোগে মো. মনিরুল ইসলাম নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই ঘটনায় অসদুপায়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার দায়ে পাঁচজন আলিম পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কক্ষে দায়িত্বরত দুই শিক্ষককেও পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ২৭ জুলাই উপজেলার কসবা মহিলা ডিগ্রি কলেজ আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে ইসলামের ইতিহাস পরীক্ষা চলাকালে এই ঘটনা ঘটে।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম আখাউড়া উপজেলার রানিখার এমদাদুল বারী মাদ্রাসার শিক্ষক।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে ৩০১ নম্বর কক্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ওই শিক্ষক নকল সরবরাহ করছেন—এমন সন্দেহ দেখা দিলে কেন্দ্রে স্থাপন করা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে উপজেলা প্রশাসন। সিসিটিভি ফুটেজে নকল সরবরাহের বিষয়টি হাতেনাতে প্রমাণিত হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানজিল কবির অভিযুক্ত শিক্ষককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
একই সাথে তাঁর থেকে সুবিধা নিয়ে নকল করার অপরাধে পাঁচ পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া ওই কক্ষে পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা আড়াইবাড়ী কামিল মাদ্রাসার দুই শিক্ষক আফসানা আক্তার ও বাকি বিল্লাহকে চলতি আলিম পরীক্ষার সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকেই দণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষককে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানজিল কবির জানান, পাবলিক পরীক্ষার সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। পরীক্ষায় যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা অসদুপায় রোধে এমন কঠোর আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
kalprakash.com/IM