রাঙ্গামাটির দুর্গম বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া বাজারে সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সংগঠনটির উদ্যোগে ফারুয়া বাজারের বন্যাকবলিত দোকানদার এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রায় ২০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হয়।
সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাঙ্গামাটি জেলা আমির সহকারী অধ্যাপক আবদুল আলীম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি আব্দুস সালাম, রাঙ্গামাটি পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি হাফেজ আবুল বাশার, বিলাইছড়ি উপজেলা জামায়াতের সভাপতি মাহমুদ হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাঙ্গামাটি জেলা সেক্রেটারি ইরফানুল হক, রাঙ্গামাটি পৌর জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও রাঙ্গামাটি জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রহমত উল্লাহ, ফারুয়া বাজার কমিটির সভাপতি মো. হারুন, সেক্রেটারি কিনারাম তঞ্চঙ্গ্যাসহ বাজার কমিটির অন্যান্য নেতারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল আলীম বলেন, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ফারুয়া বাজারসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ীর দোকানপাট, পণ্যসামগ্রী ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে অসংখ্য পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমন দুর্যোগের সময় মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে।
তিনি বলেন, মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক, সামাজিক ও ইসলামী দায়িত্ব। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের লক্ষ্য। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবার যেন দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, সে জন্য সরকার, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, বিত্তবান ব্যক্তি এবং সব সামাজিক ও মানবিক সংগঠনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ, পুনর্বাসন এবং ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ জরুরি।
আবদুল আলীম বলেন, ফারুয়া বাজার দীর্ঘদিন ধরেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতি বছর পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় এখানকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হন। তাই শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াও সময়ের দাবি। তিনি জানান, ফারুয়া বাজারের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি তুলে ধরা হবে এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মহলে জোরালো দাবি জানানো হবে।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, ফারুয়া এলাকার মানুষ সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠনকে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সবসময় অসহায় মানুষের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি সরকারকে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ এবং ফারুয়া বাজারের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
রাঙ্গামাটি পৌর জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও রাঙ্গামাটি জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রহমত উল্লাহ বলেন, সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ফারুয়া এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের যে ক্ষতি হয়েছে, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের এই দুর্দিনে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো কেবল মানবিক দায়িত্বই নয়, বরং সামাজিক ও নৈতিক কর্তব্যও। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
kalprakash.com/IM
মো নাজিম আলী, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি 






















