পঞ্চগড়ের ঐতিহাসিক মহারাজা দিঘী থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ে উদ্ধার হওয়া যুবক মানিক হোসেন (১৯) হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও জড়িত ব্যক্তি তার আপন বড় বোন মোছা. সমলা আক্তার (২৪) বলে দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্ল্যাকমেইল ও নিয়মিত ধর্ষণের প্রতিশোধ নিতে এবং প্রতিবেশীদের ফাঁসাতে তিনি স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন। পরে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জবানবন্দি দেন সমলা আক্তার।
গত ১৫ জুলাই ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে পঞ্চগড় সদর থানার অমরখানা ইউনিয়নের ভিতরগড় গ্রামের মহারাজা দিঘীর পানিতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত মানিক হোসেন (১৯) পঞ্চগড়ের মালাদাম এলাকার রইস উদ্দীনের ছেলে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য মরদেহ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি মামলা করেন।
পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে। লাশ উদ্ধারের সময় নিহতের প্যান্টের পকেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে ডিবি পুলিশ সমলা আক্তারের শয়নকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে চিরকুটের লেখার সঙ্গে হুবহু মিল থাকা একটি ক্যালেন্ডার জব্দ করে। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সমলা আক্তার জানান, মানিক তার আপন ছোট ভাই। এটি ছিল তার তৃতীয় বিয়ে এবং তার স্বামীই পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতেন। প্রায় তিন থেকে চার মাস আগে মানিক তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং গোপনে সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। পরে শারীরিক সম্পর্কে অস্বীকৃতি জানালে ভিডিওটি স্বামীর কাছে পাঠিয়ে সংসার ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে নিয়মিত ধর্ষণ করত। লোকলজ্জার ভয়ে তিনি বিষয়টি কাউকে না জানালেও একপর্যায়ে স্বামীকে সব খুলে বলেন।
পুলিশ জানায়, গত ১২ জুলাই প্রতিবেশীদের সঙ্গে সমলার পরিবারের ঝগড়ার ঘটনা ঘটে। সেই সুযোগে প্রতিবেশীদের ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন তিনি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, ১৩ জুলাই সকালে সমলা কৌশলে মানিককে মহারাজা দিঘীতে নিয়ে যান। রাতে একটি হোটেলে খাওয়ার সময় তার পানীয়তে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়। মানিক অচেতন হয়ে পড়লে তার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি দিঘীর পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে প্রতিবেশীদের ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে আগে থেকে লেখা একটি চিরকুট তার কোমরে গুঁজে দেওয়া হয়। রাত ১টার দিকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সমলা রাস্তায় অপেক্ষা করেন। এরপর এক ব্যক্তি এসে মানিককে হত্যা করে মরদেহ দিঘীর পানিতে ফেলে দেয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে মানিকের কোমরে পাওয়া চিরকুটের লেখার সঙ্গে মিল থাকা ক্যালেন্ডার এবং তার ব্যবহৃত দ্বিতীয় বাটন ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সমলা আক্তারকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
kalprakash.com/IM
পঞ্চগড় প্রতিনিধি 






















