লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে সংঘটিত তিনটি আলোচিত হত্যাকাণ্ড ঘিরে জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে উত্তাল হয়ে উঠেছে আদিতমারী উপজেলা।
সর্বশেষ ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের তালুক দুলালী বারঘড়ী গ্রামের উজ্জ্বল মিয়া (২৬) গত ২ জুন জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত হামলায় গুরুতর আহত হন। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ জুন তিনি মারা যান। এ ঘটনায় আদিতমারী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
উজ্জ্বল মিয়া হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) লালমনিরহাট শহরের মিশন মোড়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহতের পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী অংশ নিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়।
এর আগে, ৮ জুন আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লিয়াকত আলী লাদেন (১৫) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা টানা দুই দিন মহাসড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। তবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
আরও আলোচিত ঘটনা ঘটে গত ২৩ মে। ঈদ উদযাপন উপলক্ষে বাবার বাড়িতে আসা স্বপ্না বেগম (৫০) নামে এক বিধবা নারীর মরদেহ দুর্গাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণটারী গ্রাম থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলেও এখনো হত্যার রহস্য উদঘাটন কিংবা জড়িতদের শনাক্ত করার বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতির তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, আলোচিত এসব ঘটনার তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে? প্রকৃত অপরাধীরা কবে আইনের আওতায় আসবে? বিশেষ করে স্বপ্না বেগম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
এ বিষয়ে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হলেও জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
একের পর এক আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সচেতন মহলের দাবি, আধুনিক প্রযুক্তি, ফরেনসিক তদন্ত এবং গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে দ্রুত রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
kalprakash.com/SAS
লালমনিরহাট প্রতিনিধি 




















