বাংলাদেশ ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীকে গ্রেপ্তার করায় পুলিশ কে হুমকি ছাত্রলীগ নেতা আশিকের 

নওগাঁর রাণীনগরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করাকে কেন্দ্র করে থানার এক এএসআইকে হুমকি ও গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছে রাসেল আহম্মেদ আশিক নামের এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। বুধবার (২০ মে) রাণীনগর থানার এএসআই লতিফকে মোবাইল ফোনে কল করে হুমকি দেন তিনি।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় এসকে নাহিদ (২৬) নামের ছাত্রলীগের ওই কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তারের পর নাহিদকে মারধরের অভিযোগ তুলে এএসআই লতিফকে ফোনে হুমকি ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন আশিক।

অভিযুক্ত রাসেল আহম্মেদ আশিক নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাণীনগর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। আর হুমকির শিকার লতিফ রাণীনগর থানায় এএসআই হিসেবে কর্মরত।

দুই মিনিট ৫২ সেকেন্ডের একটি অডিও কল রেকর্ডে শোনা যায়, আশিক এএসআই লতিফকে প্রশ্ন করেন— মামলা ছাড়া কীভাবে এসকে নাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় কারা সহযোগিতা করেছে। তিনি আরও জানতে চান, গ্রেপ্তারের পর নাহিদকে কেন মারধর করা হয়েছে। এএসআই লতিফ বিষয়টি অস্বীকার করলে আশিক দাবি করেন, নাহিদের হাতে ও পেটে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে আশিক বলেন, “আপনারা ফাজলামি শুরু করেছেন লতিফ ভাই। আমরা কি এলাকায় ফিরব না? আপনাকে টেনে আবার রাণীনগরে নিয়ে আসা হবে। আমি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহম্মেদ আশিক। আপনি গায়ে কেন হাত দিয়েছেন?”

তিনি আরও বলেন, “আপনার এক ঘণ্টা সময়। নাহিদকে কে গ্রেপ্তার করিয়েছে, সেই তথ্য দেবেন। না হলে আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনার পরিবার-পরিজনের কথাও চিন্তা করেন।” কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি অশ্রাব্য ভাষাও ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জবাবে এএসআই লতিফ তাকে ওসি’র সঙ্গে কথা বলতে বলেন এবং জানান, তিনি এ বিষয়ে তর্কে যেতে চান না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “আপনি কেন হুমকি দিচ্ছেন, সেটা ওসি স্যারকে জানানো হবে।”

এ বিষয়ে এএসআই লতিফ বলেন, “নাহিদকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ওসি স্যারসহ আমাকে হুমকি ও গালিগালাজ করা হয়েছে। কে নির্দেশ দিয়েছে, সেটা জানতে চেয়েছে। আমার পরিবার নিয়েও হুমকি দিয়েছে। বিষয়টি ওসি স্যারকে জানিয়েছি।” তবে মারধরের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকারিয়া মণ্ডল বলেন, “নাহিদকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে কার ভূমিকা ছিল, সেটি জানতে চাওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। তবে হুমকি বা গালিগালাজের বিষয়টি জানি না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “নাহিদকে কোনো ধরনের মারধর করা হয়নি। থানার ভেতর ও বাইরে এবং হাজতখানায় সিসি ক্যামেরা রয়েছে। আদালতেও আসামিদের জিজ্ঞাসা করা হয় কোনো নির্যাতন করা হয়েছে কি না। তাই এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়।”

গ্রেপ্তার হওয়া এসকে নাহিদ উপজেলার পূর্ব বালুভরা গ্রামের এসকে হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। সম্প্রতি স্ত্রীর অসুস্থতার খবর পেয়ে বাড়িতে আসেন। সোমবার বিকেলে পারিবারিক প্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য বের হলে রাণীনগর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, পাশের আত্রাই থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

নাহিদের স্ত্রী আনিকা আক্তার বলেন, “সোমবার আটকের সময় নাহিদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে দেখা করতে গিয়ে তার হাতে, নাকে ও গলায় রক্ত দেখি। মারধর না করলে রক্ত আসবে কেন? আমি অন্তঃসত্ত্বা ও অসুস্থ। অনেক অনুরোধ করেও তাকে ছাড়াতে পারিনি।

kalprakash.com/SAS

জনপ্রিয় সংবাদ

নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীকে গ্রেপ্তার করায় পুলিশ কে হুমকি ছাত্রলীগ নেতা আশিকের 

প্রকাশিত: ১০:৪৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

নওগাঁর রাণীনগরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করাকে কেন্দ্র করে থানার এক এএসআইকে হুমকি ও গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছে রাসেল আহম্মেদ আশিক নামের এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। বুধবার (২০ মে) রাণীনগর থানার এএসআই লতিফকে মোবাইল ফোনে কল করে হুমকি দেন তিনি।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় এসকে নাহিদ (২৬) নামের ছাত্রলীগের ওই কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তারের পর নাহিদকে মারধরের অভিযোগ তুলে এএসআই লতিফকে ফোনে হুমকি ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন আশিক।

অভিযুক্ত রাসেল আহম্মেদ আশিক নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাণীনগর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। আর হুমকির শিকার লতিফ রাণীনগর থানায় এএসআই হিসেবে কর্মরত।

দুই মিনিট ৫২ সেকেন্ডের একটি অডিও কল রেকর্ডে শোনা যায়, আশিক এএসআই লতিফকে প্রশ্ন করেন— মামলা ছাড়া কীভাবে এসকে নাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় কারা সহযোগিতা করেছে। তিনি আরও জানতে চান, গ্রেপ্তারের পর নাহিদকে কেন মারধর করা হয়েছে। এএসআই লতিফ বিষয়টি অস্বীকার করলে আশিক দাবি করেন, নাহিদের হাতে ও পেটে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে আশিক বলেন, “আপনারা ফাজলামি শুরু করেছেন লতিফ ভাই। আমরা কি এলাকায় ফিরব না? আপনাকে টেনে আবার রাণীনগরে নিয়ে আসা হবে। আমি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহম্মেদ আশিক। আপনি গায়ে কেন হাত দিয়েছেন?”

তিনি আরও বলেন, “আপনার এক ঘণ্টা সময়। নাহিদকে কে গ্রেপ্তার করিয়েছে, সেই তথ্য দেবেন। না হলে আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনার পরিবার-পরিজনের কথাও চিন্তা করেন।” কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি অশ্রাব্য ভাষাও ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জবাবে এএসআই লতিফ তাকে ওসি’র সঙ্গে কথা বলতে বলেন এবং জানান, তিনি এ বিষয়ে তর্কে যেতে চান না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “আপনি কেন হুমকি দিচ্ছেন, সেটা ওসি স্যারকে জানানো হবে।”

এ বিষয়ে এএসআই লতিফ বলেন, “নাহিদকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ওসি স্যারসহ আমাকে হুমকি ও গালিগালাজ করা হয়েছে। কে নির্দেশ দিয়েছে, সেটা জানতে চেয়েছে। আমার পরিবার নিয়েও হুমকি দিয়েছে। বিষয়টি ওসি স্যারকে জানিয়েছি।” তবে মারধরের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকারিয়া মণ্ডল বলেন, “নাহিদকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে কার ভূমিকা ছিল, সেটি জানতে চাওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। তবে হুমকি বা গালিগালাজের বিষয়টি জানি না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “নাহিদকে কোনো ধরনের মারধর করা হয়নি। থানার ভেতর ও বাইরে এবং হাজতখানায় সিসি ক্যামেরা রয়েছে। আদালতেও আসামিদের জিজ্ঞাসা করা হয় কোনো নির্যাতন করা হয়েছে কি না। তাই এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়।”

গ্রেপ্তার হওয়া এসকে নাহিদ উপজেলার পূর্ব বালুভরা গ্রামের এসকে হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। সম্প্রতি স্ত্রীর অসুস্থতার খবর পেয়ে বাড়িতে আসেন। সোমবার বিকেলে পারিবারিক প্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য বের হলে রাণীনগর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, পাশের আত্রাই থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

নাহিদের স্ত্রী আনিকা আক্তার বলেন, “সোমবার আটকের সময় নাহিদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে দেখা করতে গিয়ে তার হাতে, নাকে ও গলায় রক্ত দেখি। মারধর না করলে রক্ত আসবে কেন? আমি অন্তঃসত্ত্বা ও অসুস্থ। অনেক অনুরোধ করেও তাকে ছাড়াতে পারিনি।

kalprakash.com/SAS