বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ | ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | বিকাল ৪:৪৯:০০
শিরোনাম
● ধামরাইয়ে ৩ লাখ টাকার হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ● চাটমোহরে কৃষক প্রশিক্ষণ ও বীজ বিতরণ অনুষ্ঠিত ● ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জাল ভোটের চেষ্টায় আটক ৩ ● চাটমোহরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ● মাসিক কল্যাণ সভায় অফিসারদের কথা শুনে  তাৎক্ষণিক সমাধানের ব্যবস্থা – সিএমপি কমিশনার ● নোয়াখালীতে দেশীয় বন্দুকসহ অস্ত্র তৈরির কারিগর গ্রেপ্তার ● বরগুনায় মোটর চালিয়ে ট্রলার পরিষ্কারের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ হারালেন জেলে ● ওয়াসাকে সতর্ক করলেন প্রতিমন্ত্রী, ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আলটিমেটাম ● ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রকে মানুষের ভরসার জায়গায় নিয়ে যেতে চাই: আইনমন্ত্রী ● স্টারলিংকের বিকল্প গড়ছে রাশিয়া, মাস্ককে ‘জিনিয়াস’ বললেন পুতিন ● ধামরাইয়ে ৩ লাখ টাকার হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ● চাটমোহরে কৃষক প্রশিক্ষণ ও বীজ বিতরণ অনুষ্ঠিত ● ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জাল ভোটের চেষ্টায় আটক ৩ ● চাটমোহরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ● মাসিক কল্যাণ সভায় অফিসারদের কথা শুনে  তাৎক্ষণিক সমাধানের ব্যবস্থা – সিএমপি কমিশনার ● নোয়াখালীতে দেশীয় বন্দুকসহ অস্ত্র তৈরির কারিগর গ্রেপ্তার ● বরগুনায় মোটর চালিয়ে ট্রলার পরিষ্কারের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ হারালেন জেলে ● ওয়াসাকে সতর্ক করলেন প্রতিমন্ত্রী, ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আলটিমেটাম ● ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রকে মানুষের ভরসার জায়গায় নিয়ে যেতে চাই: আইনমন্ত্রী ● স্টারলিংকের বিকল্প গড়ছে রাশিয়া, মাস্ককে ‘জিনিয়াস’ বললেন পুতিন

চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেবে সরকার

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৫
শেয়ার: mail
চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেবে সরকার

দেশের কৃষকদের নিবন্ধন, কৃষি উপকরণ সহায়তা প্রদান ও পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী কৃষক কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে বড় পরিসরে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। আগামী চার বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনার কাজ চলছে।

দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলায় ১৪ হাজার ১৮০টি কৃষি ব্লককে কেন্দ্র করে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সব জেলা, উপজেলা ও কৃষি ব্লককে পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা হবে। ইতিমধ্যে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ, ব্যাংক হিসাব খোলা, প্রাক-পাইলটিংয়ের মাধ্যমে কার্ড বিতরণ ও কৃষি উপকরণ সহায়তা প্রদানের কার্যক্রম চলছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা এবং তাঁদের কাছে আর্থিক ও কৃষি উপকরণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার ১ হাজার ৬৮১টি কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রমের অগ্রগতি হয়েছে। এসব ব্লকে এ পর্যন্ত ১৯ লাখ ২৫ হাজার কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কৃষক কার্ডসংক্রান্ত ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে ৯ লাখ। তথ্য সংগ্রহ ও ব্যাংক হিসাব খোলার এ কার্যক্রম কর্মসূচির প্রাথমিক বাস্তবায়ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কর্মসূচির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যাচাই ও প্রাথমিক কার্যক্রম পরিচালনার অংশ হিসেবে চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। এ পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬, বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড বিতরণের প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর নির্ধারিত এলাকাগুলোতে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

প্রাক-পাইলটিংয়ের আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে ২০ হাজার ৪৮০ জনকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। জনপ্রতি বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে এ পর্যায়ে মোট ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়।

প্রাক-পাইলটিংয়ের অভিজ্ঞতার পর কর্মসূচি আরও বিস্তৃত এলাকায় সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত ১ অক্টোবর ২০২৬ দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় ভার্চুয়ালি একযোগে কৃষক কার্ড কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে প্রতিটি উপজেলা থেকে একটি করে কৃষি ব্লক নির্বাচন করা হয়েছে। ফলে মোট ৭৭টি কৃষি ব্লকে কর্মসূচির কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এ পর্যায়ে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ফেনীর ছয়টি উপজেলার ছয়টি কৃষি ব্লকের কৃষকদের মধ্যে ৭ হাজার ৬৪৩টি কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। কর্মসূচি একযোগে সব কৃষি ব্লকে বাস্তবায়ন না করে পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচিত এলাকাগুলোতে কৃষক কার্ড কর্মসূচি সম্প্রসারণের পাশাপাশি কৃষি উপকরণ সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এ সহায়তার আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যায়ে কৃষি উপকরণ সহায়তার আওতাভুক্ত কৃষকের সংখ্যা ১ লাখ ৪৭ জন। এর মধ্যে ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলার ৭ হাজার ১৫৩ জন এবং বাকি ৫৫ জেলার ৯২ হাজার ৮৯৪ জন কৃষক রয়েছেন।

প্রাথমিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ও ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী কার্ড বিতরণ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসূচি দেশব্যাপী বাস্তবায়নের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। চলতি অর্থবছরের ৪৩ লাখ কৃষকের লক্ষ্য অর্জনের অগ্রগতি মূল্যায়নে কৃষক নিবন্ধন, কার্ড বিতরণ, ব্যাংক হিসাব খোলা ও কৃষি উপকরণ সহায়তা প্রদানের হালনাগাদ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্প। প্রকল্পের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর (ডিপিডি) মো. রাকিবুজ্জামান খান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ, তাঁদের চাহিদা নিরূপণ ও কৃষির আধুনিকায়নে সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ চলছে। কৃষকের চাহিদা যেহেতু সৃজনভিত্তিক পরিবর্তন হয়, তাই কিছুটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার পর তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে। তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে ২২ হাজার কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কৃষক কার্ড কর্মসূচির সঙ্গে তথ্য ও কার্যক্রমের সমন্বয়ের মাধ্যমে কৃষককে বিভিন্ন কৃষিসেবার আওতায় আনা ও মাঠপর্যায়ে সরকারি উদ্যোগগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানো সম্ভব হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক কার্ড সেলের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন বলেন, কৃষক কার্ড কর্মসূচির মূল লক্ষ্য কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ এবং তাঁদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও কার্যকর করা। এ জন্য কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের কার্যক্রম সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষক কার্ড কর্মসূচি দেশের কৃষকদের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডারের আওতায় আনার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করা, তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষি উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং কৃষিসেবা কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল করার সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষি ও কৃষকবান্ধব প্রধানমন্ত্রী কৃষকের কল্যাণে কৃষক কার্ড প্রবর্তন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন ও নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী চার বছরের মধ্যে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা ১০টি সেবা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ, সেচ, সার, বীজ, প্রণোদনা, কৃষি বীমা, আবহাওয়া তথ্য ও বালাইনাশক পরামর্শসহ বিভিন্ন সুবিধা। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষককে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেওয়ার পাশাপাশি সরকার ও রাষ্ট্র যে তাঁদের পাশে আছে, তারই প্রতিফলন ঘটছে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেবে সরকার

বিস্তারিত কমেন্টে