পুলিশকে মানবিক ও বন্ধুসুলভ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, পুলিশকে শক্তিশালী করলে ‘আমরা সবাই সমাজে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারবো।’
রোববার (২৫ অক্টোবর) বাগেরহাটে জেলা পুলিশ আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে নতুন পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম ও বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আইজিপি বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশকে আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগের ফলে পুলিশের বিদ্যমান সমস্যাগুলো অচিরেই সমাধান হবে।
তিনি আরও বলেন, টিঅ্যান্ডওইতে পাস করা গাড়ির সংখ্যার চেয়ে পুলিশের প্রায় আড়াই হাজার গাড়ি কম আছে। এ ছাড়া ৮ থেকে ২০ বছর পুরোনো গাড়ির সংখ্যাও এর চেয়ে কম নয়। সরকার ৫ হাজার ৮০০ গাড়ি কেনার নতুন প্রকল্প নিয়েছে, যা একনেকে অনুমোদন পেয়েছে।
আলী হোসেন ফকির বলেন, পুলিশের জনবল সংকট রাতারাতি শেষ করা যাবে না। প্রতিবছর কমপক্ষে ১৫ হাজার জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। এতে জনবল সংকট কেটে যাবে, লজিস্টিকস সংকটও থাকবে না। এখন শুধু সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি মবে উসকানি না দিয়ে সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
পুলিশ প্রধান বলেন, সবার জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন দরকার। দেশে বেকারত্ব আছে এবং প্রতিবছর ২৫ থেকে ৩০ লাখ শিক্ষিত বেকার এ সংখ্যার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। তাদের পুনর্বাসনের জন্য মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ, কিশোর গ্যাং, মাদক ও দুর্নীতি দমন এবং জীবনমান উন্নয়নসহ পনেরোটি সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
আইজিপি আরও বলেন, কিশোর গ্যাং নির্মূলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার অফিসার ইনচার্জকে নিয়ে ইতোমধ্যে কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটি ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। তিনি বলেন, ইউনিয়নে কে খারাপ লোক, কে কোন পাড়ায় মাদক গ্রহণ করে, তা স্থানীয়রা জানেন। তাঁরা পুলিশকে সহযোগিতা করলে একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, যিনি সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য স্বেচ্ছায় কাজ করবেন, তাঁকে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটিতে নেওয়া হবে।
পরে আইজিপি জেলা পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে জেলা পুলিশ আয়োজিত বিশেষ কল্যাণ সভায় পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সূত্র: বাসস
kalprakash.com/IM