আর্জেন্টিনার জার্সিতে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন লিওনেল মেসি। একই দিনে জাতীয় দল নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছেন পর্তুগালের তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। তবে আপাতত জাতীয় দল ছাড়ার কোনো সিদ্ধান্ত তাঁর নেই; বরং নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবারও পর্তুগালের হয়ে মাঠে নামার প্রত্যয় জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ বিবৃতিতে সাম্প্রতিক জাতীয় দলের ক্যাম্পে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরেন রোনালদো। একই সঙ্গে কোচের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি।
রোনালদোর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপের পর পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) সভাপতি তাঁকে জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন। একই সঙ্গে বর্তমান কোচের ব্যাপারে তাঁর মতামত জানতে চাওয়া হয়। তখন রোনালদো স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, ওই কোচই দলের জন্য সঠিক ব্যক্তি।
গত আগস্টে কোচ তাঁকে জানান, দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রোনালদো গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁকে প্রথম ও শেষ ম্যাচে খেলানোর পাশাপাশি অ্যাওয়ে ম্যাচগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল। তবে অধিনায়ক হিসেবে এমন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন রোনালদো।
এরপর নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের দিন তাঁকে ৩০ মিনিট খেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়। পরিকল্পনায় আগে থেকে না থাকলেও রোনালদো এতে রাজি হন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই তিনি ওয়ার্ম-আপ করতে থাকেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাঠে নামানো হয়নি তাঁকে। রোনালদোর দাবি, এতে কোচ তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখেননি।
ম্যাচ শেষে সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে না যাওয়াকে নিজের ভুল হিসেবে স্বীকার করে ক্ষমা চান রোনালদো।
তিনি জানান, এর ৪৮ ঘণ্টা পর কুতিনহোর উপস্থিতিতে কোচের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সংবাদ সম্মেলনে কোচই ঘটনার প্রকৃত ব্যাখ্যা দেবেন। বিশেষ করে বলা হবে, পুরো পরিকল্পনাটি কোচেরই ছিল এবং রোনালদো নিজে খেলার সময় বাড়ানোর কোনো অনুরোধ করেননি। তাঁকে মাঠে না নামিয়ে ওয়ার্ম-আপ করানোও কোচের ভুল ছিল বলে জানানো হয়েছিল।
রোনালদোর দাবি, এমনকি সংবাদ সম্মেলনের দিন সকালেও তিনি এফপিএফ সভাপতি ও কোচকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আপনারা যদি আমাকে না চান, তাহলে শুধু আমাকে বলে দিন।’ দুজনই তাঁকে দলে চান বলে জানিয়েছিলেন।
কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে তাঁর সঙ্গে হওয়া সমঝোতার বিপরীত বক্তব্য দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রোনালদোর। তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্যও করা হয়, যা তিনি নিজের জন্য অসম্মানজনক বলে মনে করেন।
রোনালদো বলেন, প্রায় ২৫ বছরের ক্যারিয়ারে কোনো কোচের টেকনিক্যাল সিদ্ধান্তে তিনি কখনো হস্তক্ষেপ করেননি। তবে তাঁর সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা হলে সেই পরিবেশে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
দল ছেড়ে আসার ঘটনায় সতীর্থদের কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। পুরো ঘটনার দায় নিজের ওপর নিয়ে এফপিএফের কাছ থেকে কোনো ছাড় না দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন পর্তুগালের অধিনায়ক।
জাতীয় দল থেকে বিদায়ের আলোচনা প্রসঙ্গে রোনালদো বলেন, তাঁর কাছে পর্তুগালের হয়ে খেলার অর্থ হলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা, লড়াই করা এবং দেশের জন্য সর্বোচ্চটা দেওয়া। বাবার মৃত্যুর সময়ও দলের সঙ্গে থেকে দায়িত্ব পালন করার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশের জন্য নিজের দায়িত্বকে সব সময়ই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
সবশেষে জাতীয় দলে ফেরার বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন রোনালদো। তাঁর ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর তিনি যদি ফিট থাকেন, তাহলে পর্তুগালের হয়ে জয় ও লড়াইয়ের জন্য আগের মতোই প্রস্তুত থাকবেন।
অর্থাৎ রোনালদোর বক্তব্যে আপাতত জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা নেই; বরং সাম্প্রতিক ঘটনার প্রতিবাদে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, সুযোগ পেলে আবারও পর্তুগালের জার্সিতে মাঠে ফিরতে প্রস্তুত তিনি।
kalprakash.com/IM