ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ভেঙে রুহিয়াকে নতুন উপজেলা ঘোষণা করার পর প্রশাসনিক কার্যক্রম দৃশ্যমান হতে শুরু করলেও মৌলিক নাগরিক সেবা এখনো অধরা রয়ে গেছে। প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ও কারিগরি প্রস্তুতির অভাবে রুহিয়া উপজেলায় ভূমির নামজারি (মিউটেশন) কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মুখে পড়েছেন স্থানীয় হাজার হাজার বাসিন্দা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রুহিয়া নতুন উপজেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশের আগে এ অঞ্চলের ইউনিয়নগুলো ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ভূমি অফিসের অধীনে পরিচালিত হতো। চলতি বছরের ৭ মে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে সদর উপজেলা ভেঙে ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে রুহিয়া উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার কয়েক মাস আগে থেকেই এ অঞ্চলে নামজারি প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে রেকর্ড সংশোধন ও নামজারি বন্ধ থাকায় জরুরি জমি হস্তান্তর, ব্যাংক ঋণ গ্রহণ এবং উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি বণ্টনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে দৈনন্দিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ব্যক্তিগত জরুরি প্রয়োজনে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অসহায়ত্বের চিত্র পাওয়া গেছে। রাজাগাঁও এলাকার এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জরুরি চিকিৎসার খরচ জোগাতে কিছু জমি বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু নামজারি না থাকায় ক্রেতা জমি কিনতে রাজি হচ্ছেন না। ভূমি অফিসে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, ওপর মহলের নির্দেশনা ছাড়া কাজ শুরু করা সম্ভব নয়।’
একই ভোগান্তির কথা জানান মধুপুর কালিতলা বাজারের ব্যবসায়ী শাহিরুল ইসলাম। তিনি ব্যবসার পুঁজি ও জরুরি অর্থ সংস্থানের জন্য জমি বন্ধক রেখে ব্যাংক ঋণের আবেদন করতে গেলেও নামজারি খতিয়ান না থাকায় ঋণ প্রক্রিয়া আটকে গেছে।
স্থানীয় অধিবাসীদের মতে, নতুন উপজেলা গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু নামজারির মতো মৌলিক সেবা বন্ধ থাকায় প্রশাসনিক এ রূপান্তরের কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পুনর্গঠনের পর ভূমি ব্যবস্থাপনার তথ্য ও ডিজিটাল ডেটাবেজ নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ চলছে। তবে রুহিয়া উপজেলার জন্য এখনো সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ সৃজন বা কর্মকর্তা পদায়ন করা হয়নি। ফলে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা গেলেও তা অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আইডিতে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদায়ন নিশ্চিত করে ডিজিটাল এ জটিলতা নিরসনের জোর দাবি জানিয়েছে। রুহিয়ার হাজারো মানুষের ভোগান্তি লাঘবে ভূমি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
kalprakash.com/IM