চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় একজন নিকাহ্ রেজিস্ট্রারের (কাজী) বিরুদ্ধে এমপিওভুক্ত দাখিল মাদ্রাসায় চাকরি করে সরকারি বেতন-ভাতা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার এই অভিযোগের সরেজমিন তদন্তে যাওয়ার কথা ছিল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার। কিন্তু তিনি না আসায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, আজ সকালে উপজেলার সোনারগাঁও এলাকায় তদন্তের কথা ছিল। বিষয়টি জেনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় দেড় শ মানুষ তদন্ত দেখতে সেখানে জড়ো হন। নির্ধারিত সময়ে কর্মকর্তা না আসায় তাঁরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
গত ২৪ আগস্ট সোনারগাঁওয়ের বাসিন্দারা রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, সোনারগাঁও গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাজী মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুছ (পিতা: আবদুল মজিত) দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের (১৪ নম্বর) ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে নিকাহ্ রেজিস্ট্রার হিসেবে কাজ করছেন। একই সময়ে তিনি এমপিওভুক্ত সোনারগাঁও দাখিল মাদ্রাসায় চাকরি করে সরকারি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নিচ্ছেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, বিষয়টি রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীকে জানানো হলে তিনি ইউএনও নাজমুল হাসানকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে ইউএনও সরেজমিন তদন্তের দায়িত্ব দেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সালমা ইসলামকে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর অনেক দিন পেরিয়ে গেলেও তদন্ত বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। এতে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মুহাম্মদ আবুল হাসেম বলেন, ‘অভিযোগের পর থেকে শিক্ষা কর্মকর্তার আসার কথা থাকলেও বারবার তারিখ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তিনি আসেননি। আজ আসার কথা থাকায় প্রায় দেড় শ মানুষ জড়ো হন। শেষ পর্যন্ত তিনি আসেননি।’
এলাকাবাসী বলেন, কাউকে হয়রানি করা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযুক্ত করা তাঁদের লক্ষ্য নয়। তাঁরা চান, সরকারি নথিপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষভাবে অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ করা হোক। তদন্তের নামে যেন বিষয়টি দীর্ঘসূত্রতায় না পড়ে।
স্থানীয় লোকজনের মতে, তদন্তে ওই ব্যক্তির মাদ্রাসায় নিয়োগপত্র, এমপিওভুক্তির তথ্য, বেতন-ভাতা গ্রহণের নথি ও হাজিরা রেজিস্টার যাচাই করা প্রয়োজন। এ ছাড়া নিকাহ্ রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ ও দায়িত্ব পালনের অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্রও দেখা দরকার। একই সময়ে দুটি দায়িত্ব পালনের জন্য সরকারি অনুমোদন বা বৈধ ছাড়পত্র ছিল কি না, তা-ও স্পষ্ট করার দাবি জানান তাঁরা।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সালমা ইসলাম বলেন, ‘আজ যাওয়ার কথা থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকায় যেতে পারিনি। আমি প্রথমবারই যাওয়ার জন্য তারিখ দিয়েছি। বারবার তারিখ দেওয়ার কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা। অভিযোগের বিষয়ে গভীরভাবে তদন্ত চলছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে সরেজমিনে তদন্তে যাব।’
ইউএনও নাজমুল হাসান বলেন, এ ধরনের তদন্ত গোপনে হওয়ার কথা, সেখানে এলাকার লোকজনের থাকার কথা নয়। সেখানে মানুষ জড়ো হওয়ায় শিক্ষা কর্মকর্তার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে হয়তো তিনি যাননি।
অভিযোগের বিষয়ে কাজী মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুছ বলেন, সরকারি নথি অনুযায়ী দুটি দায়িত্ব পালনের অনুমতি তাঁর আছে। তাঁর দাবি, অভিযোগকারীরা তাঁর মানসম্মান ক্ষুণ্ন করতে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করছেন।
এদিকে শিক্ষা কর্মকর্তার অনুপস্থিতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নজরে এনে দ্রুত তদন্ত শেষ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা নিশ্চিত হবে এবং প্রমাণ মিললে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
kalprakash.com/IM