ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কুষ্টিয়াগামী গোধূলী বাসে উচ্চস্বরে গল্প করাকে কেন্দ্র করে সিনিয়র-জুনিয়রের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়ার জেলখানা মোড়ে বাংলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হৃদয় ও ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাইদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ক্যাম্পাস থেকে কুষ্টিয়াগামী গোধূলী বাসে আবু সাইদসহ তাঁর কয়েকজন সহপাঠী উচ্চস্বরে গল্প করছিলেন। এ নিয়ে কুষ্টিয়ার জেলখানা মোড় এলাকায় আবু সাইদ ও বাংলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বাপ্পির মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী হৃদয় বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে এগিয়ে এলে আবু সাইদ ও হৃদয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এতে হৃদয়ের নাক দিয়ে রক্ত বের হয় এবং আবু সাইদের হাতে কাচ লেগে কেটে যায়।
হৃদয়ের বন্ধু বাপ্পির অভিযোগ, এ সময় আবু সাইদ হৃদয়ের নাক ও মুখে কিল-ঘুষি মারেন। তবে আবু সাইদের দাবি, হৃদয় তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং কাচে লেগে তাঁর হাত কেটে যায়। এরপর তিনিও হৃদয়কে কয়েকটি ঘুষি মারেন।
এ বিষয়ে হৃদয়ের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর বন্ধু বাপ্পি বলেন, “বাসের মধ্যে আবু সাইদ উচ্চস্বরে গল্প করছিলেন। পরে তাঁকে বললাম, এটা তো খেলার মাঠ না যে আপনারা এভাবে কথা বলবেন। তখন তিনি বলেন, ‘তুই এখন কেন বলছিস? সমস্যা হলে আগেই বলতি।’ আমি বললাম, ভবিষ্যতে যেন এমন আর না করেন, এজন্য বললাম। এরপর তিনি আমাকে গালি দেন। তখন হৃদয় এগিয়ে এসে তাঁকে গালি দেওয়ার কারণ জানতে চায়। পরে তাদের একজন আমাকে আটকায় এবং আমার ফোন কেড়ে নেয়। এ সময় আবু সাইদ আমার বন্ধুকে নাক ও মাথায় মারধর করেন। হৃদয়কে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করব।”
অভিযোগের বিষয়ে আবু সাইদ বলেন, “আমরা ক্যারিয়ার-সম্পর্কিত গল্প করতে করতে আসছিলাম। তারা তখন আমাদের কিছু বলেনি। বাস থেকে নামার সময় হঠাৎ বলল, ‘ভাই, আপনারা এত ম্যানারলেস কেন? এভাবে হৈচৈ করেন কেন?’ আমরা বলি, আগে জানালে আমরা কথা বলা বন্ধ রাখতাম। পরে তাদের একজন আমার সেশন জানতে চায়। আমি উত্তর দেওয়ার পর তিনি বাস থেকে বের হয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তাঁর একজন বন্ধু আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। কাচে লেগে আমার হাত কেটে যায়। এরপর আমিও তাঁকে কয়েকটি ঘুষি মারি।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
kalprakash.com/IM