উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাত শহরে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা ও বন্দুকযুদ্ধ দেশটির ভঙ্গুর নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নামাজের সময় এক হামলাকারী কোহাত পুলিশ কমপ্লেক্সের দেয়াল ভেঙে বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে কমপ্লেক্সের ভেতরের একটি মসজিদকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে ১৬ জন পুলিশ সদস্যসহ মোট ৩১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
পাকিস্তানের অভিযোগ, হামলাকারীদের মধ্যে একজন আফগান নাগরিক ছিলেন এবং আফগানিস্তানের ভেতরে তাদের নিরাপদ আস্তানা রয়েছে। এমন অভিযোগের পর পাকিস্তান সীমান্ত পেরিয়ে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালায়। এই হামলা ও পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপকে ঘিরে দুই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে আগে থেকেই চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকেছে।
পরবর্তী সময়ে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান (আইএমপি) নামের একটি জিহাদি জোট এ হামলার দায় স্বীকার করে।
দ্য কনভারসেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিলে লস্কর-ই-ইসলাম, হাফিজ গুল বাহাদুর গ্রুপ ও ইনকিলাব-ই-ইসলামী নামের তিনটি ছোট জঙ্গি দল একত্রিত হয়ে আইএমপি গঠন করে। প্রতিষ্ঠার অতি অল্প সময়ের মধ্যেই এটি তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) পর দেশটির দ্বিতীয় শীর্ষ সক্রিয় জিহাদি জোটে পরিণত হয়।
আইএমপির মূল লক্ষ্য হলো আত্মঘাতী হামলা, গাড়িবোমা ও রকেটের মাধ্যমে হামলা চালিয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে দুর্বল করা এবং আফগান সীমান্তবর্তী উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে নিজস্ব শাসন প্রতিষ্ঠা করা। ২০২৬ সালের মে মাসে এক চেকপোস্টে হামলা চালিয়ে ১৫ পুলিশ সদস্যকে হত্যা এবং জুলাই মাসে বান্নু শহরের এক থানায় গাড়িবোমা হামলার পেছনেও ছিল এই গোষ্ঠীটি। বর্তমানে তারা বিভিন্ন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পাকিস্তানের অন্যান্য জিহাদি গোষ্ঠীকে একই কমান্ডের অধীনে আনার চেষ্টা করছে।
তবে মসজিদে সরাসরি হামলা ও বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের প্রাণহানির কারণে জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর নিজেদের মধ্যেই তীব্র কোন্দল ও বিভাজন দেখা দেয়। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) ও জামায়াত-উল-আহরার পৃথক বিবৃতি দিয়ে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানায় এবং এতে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়।
উল্লেখ্য, বর্তমানে পাকিস্তানে টিটিপি, আইএমপি, একিউআইএস ও আইএসকেপির মতো স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চরমপন্থী গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্য মারাত্মকভাবে বেড়েছে, যা দেশকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচকের শীর্ষ অবস্থানে নিয়ে গেছে। ২০২১ সালে আফগান তালেবান কাবুলের ক্ষমতায় আসার পর থেকে টিটিপি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল, কোহাত হামলার পর তা আরও জটিল ও বিপজ্জনক রূপ ধারণ করেছে।
kalprakash.com/IM