হেপাটাইটিস বি একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা মূলত লিভারকে আক্রান্ত করে। দীর্ঘদিন শরীরে এ ভাইরাসের সংক্রমণ থাকলে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে টিকা নেওয়ার মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
হেপাটাইটিস বি টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। বিশেষ করে শিশুর জন্মের পরপরই প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত মায়ের সন্তানের ক্ষেত্রে জন্মের ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম ডোজ দেওয়ার পরামর্শ রয়েছে।
কারা হেপাটাইটিস বি টিকা নেবেন
জন্মের পর সব শিশুকেই হেপাটাইটিস বি টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত যেসব শিশু বা কিশোর টিকা নেয়নি, তারাও টিকা নিতে পারে।
প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি, এমন ব্যক্তিদের টিকা নেওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যেমন:
- হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত ব্যক্তির যৌনসঙ্গী ও পরিবারের সদস্য
- একাধিক যৌনসঙ্গী রয়েছে এমন ব্যক্তি
- যৌনবাহিত রোগের চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তি
- স্বাস্থ্যকর্মী ও রক্তের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকিতে থাকা কর্মী
- দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত ও ডায়ালাইসিস নেওয়া ব্যক্তি
- দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি
- হেপাটাইটিস সি বা এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি
- ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি
এ ছাড়া যেসব দেশে হেপাটাইটিস বি সংক্রমণের হার বেশি, সেসব দেশে ভ্রমণকারীদেরও টিকা নেওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নির্দিষ্ট ঝুঁকি না থাকলেও হেপাটাইটিস বি থেকে সুরক্ষা পেতে টিকা নেওয়া যায়।
কত ডোজ টিকা নিতে হয়
হেপাটাইটিস বি টিকার সাধারণ সূচিতে তিনটি ডোজ দেওয়া হয়। প্রথম ডোজ যেকোনো সময় নেওয়া গেলেও নবজাতকের ক্ষেত্রে জন্মের পরপরই দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণভাবে:
প্রথম ডোজ: জন্মের পরপরই বা নির্ধারিত সময়ে
দ্বিতীয় ডোজ: প্রথম ডোজের অন্তত ২৮ দিন পর
তৃতীয় ডোজ: প্রথম ডোজের অন্তত ১৬ সপ্তাহ পর
শিশুর ক্ষেত্রে তৃতীয় ডোজ দেওয়ার সময় বয়স কমপক্ষে ২৪ সপ্তাহ হওয়া প্রয়োজন।
কোনো ডোজ নিতে দেরি হয়ে গেলে সাধারণত শুরু থেকে আবার টিকা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। যে ডোজটি বাকি রয়েছে, সেটি যত দ্রুত সম্ভব নেওয়া যায়।
টিকা নিলে কি হেপাটাইটিস বি হতে পারে?
হেপাটাইটিস বি টিকা থেকে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। বর্তমানে ব্যবহৃত হেপাটাইটিস বি টিকা কৃত্রিমভাবে তৈরি এবং এতে রক্ত বা রক্তজাত উপাদান থাকে না।
তবে শরীরে আগে থেকেই হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের সংক্রমণ থাকলে টিকা সেই সংক্রমণ সারাতে পারে না। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা করে সংক্রমণের অবস্থা জানা যেতে পারে।
টিকা নেওয়ার পর সাধারণত ইনজেকশনের স্থানে সামান্য ব্যথা বা লালচে ভাব এবং হালকা জ্বরের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই বিরল।
হেপাটাইটিস বি দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগ ও লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে এ রোগ প্রতিরোধে টিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শিশুদের জন্মের পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা দেওয়া এবং ঝুঁকিতে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা নেওয়া উচিত।
kalprakash.com/IM