পর্তুগালে প্রকাশ্য স্থানে মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দেশটির নতুন আইনে বোরকাসহ মুখ ঢেকে রাখে এমন যেকোনো ধরনের আবরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আইন অমান্য করলে ১৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও জোসে সেগুরো এ সপ্তাহেই নতুন আইন কার্যকরের অনুমোদন দেন। পর্তুগিজ গণমাধ্যমে আইনটি বোরকা আইন নামে পরিচিতি পেয়েছে। আইনে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় পোশাকের নাম উল্লেখ না থাকলেও মুখ আংশিক বা পুরোপুরি ঢেকে রাখা মুসলিম নারীদের পোশাককে লক্ষ্য করেই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে নতুন আইনে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যগত, পেশাগত, শৈল্পিক কিংবা আবহাওয়াজনিত কারণে মুখ ঢেকে রাখার অনুমতি থাকবে। এছাড়া উপাসনালয়, কূটনৈতিক মিশন ও বিমানের ভেতরে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। আইনে লিঙ্গ, ধর্ম, বয়স বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে কাউকে জোরপূর্বক মুখ ঢাকতে বাধ্য করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট সেগুরো এক বিবৃতিতে জানান, মানুষের মুখ তার পরিচয় ও যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পর্তুগিজ সমাজে পারস্পরিক আস্থা ও সামাজিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো উন্মুক্ত মুখাবয়ব। তবে বিষয়টি সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল বলেও স্বীকার করেন তিনি। ব্যক্তিস্বাধীনতা, ধর্মীয় অধিকার, লৈঙ্গিক সমতা ও সামাজিক সংহতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা জটিল একটি বিষয় বলেও মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট।
ডানপন্থী শেগা পার্টির উত্থাপিত বিলটির চূড়ান্ত সংস্করণ গত জুলাইয়ে পার্লামেন্টে অনুমোদন পায়। এতে সমর্থন জানায় মধ্য-ডানপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি। ক্ষমতাসীন ডানপন্থী জোট ও কট্টর ডানপন্থীরা নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ভোট দিলেও বামপন্থী দলগুলো এর জোরালো বিরোধিতা করে।
পর্তুগালের কয়েকটি আইনজীবী সংগঠন আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে সোশ্যালিস্ট পার্টি, লিভরে ও কমিউনিস্ট পার্টি সতর্ক করে জানিয়েছে, এ ধরনের আইন ইসলামবিদ্বেষ উসকে দিতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ফ্রান্স ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে প্রকাশ্য স্থানে পূর্ণ মুখাবরণ নিষিদ্ধ করে। পরবর্তীতে বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক ও লুক্সেমবার্গসহ ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করে।
kalprakash.com/IM