যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দরপতন এবং বৈশ্বিক বন্ডের সুদহার কয়েক দশকের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কমে আসায় বুধবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি অব্যাহত থাকায় সুদের হার নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত পেতে সর্বশেষ নীতিনির্ধারণী বৈঠকের কার্যবিবরণীর অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) সকাল ৯টা ৮ মিনিটে স্পট স্বর্ণের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৩৫৬ দশমিক ২৯ ডলারে উঠেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪১০ দশমিক ৩০ ডলার।
বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টাকা। সে হিসেবে প্রতি গ্রামের দাম প্রায় ১৭ হাজার ১০০ টাকা এবং প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় প্রায় এক লাখ ৯৯ হাজার ৪০০ টাকা। তবে এটি শুধু আন্তর্জাতিক স্পট মূল্যের ভিত্তিতে হিসাব; দেশে সোনা কিনতে ডলারের বিনিময় হার, ভ্যাট ও মজুরিসহ অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় বিক্রয়মূল্য আরও বেশি হয়ে থাকে।
এর আগে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছিল। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও জাপানে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের খরচ কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বুধবার বন্ড বিক্রির চাপ কিছুটা কমার পাশাপাশি ডলারের দর কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ায় সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে।
জেফরিজ মালিকানাধীন ট্রেডু ডটকমের (Tradu.com) জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবোরাস জানান, স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের বাজারে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া কঠিন হতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতির চাপ কমতে থাকা ও ফেডের সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা থাকায় স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৫০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে আরও বাড়তে পারে।
বাজার বিশ্লেষকেরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির (এফওএমসি) জুলাইয়ের বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশের অপেক্ষায় আছেন। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্যমতে, বাজারে বর্তমানে ফেডের সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা ৬৭ শতাংশ।
ইউবিএসের বিশ্লেষকেরা জানান, চলতি মাসে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৬৩ দশমিক ১০ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭২৬ দশমিক ৯৬ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৯১ দশমিক ২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকায়। এর আগে গত ১৪ আগস্ট স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়েছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
kalprakash.com/IM