শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ | ১৩ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৫ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | রাত ১:৩১:৫৭

নাটোরে ইউএনও অফিসে হামলার এজাহারের পরদিনই ডিসি প্রত্যাহার ও ইউএনও বদলি

মিজানুর রহমান, নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৫
শেয়ার: mail
নাটোরে ইউএনও অফিসে হামলার এজাহারের পরদিনই ডিসি প্রত্যাহার ও ইউএনও বদলি

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় মামলা দায়েরের পরদিনই নাটোরের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) প্রত্যাহার ও লালপুরের ইউএনওকে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়।

এই আকস্মিক বদলিকে কেন্দ্র করে নাটোরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কারণেই এই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব বরমান হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে নাটোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। অন্যদিকে রাজশাহী বিভাগীয় জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার প্রীতিলতা বর্মণ স্বাক্ষরিত অপর আদেশে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

এর আগে গত ১২ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষের জেরে লালপুর ও বাগাতিপাড়া ইউএনও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। সোমবার (১৭ আগস্ট) এ ঘটনায় লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শুকুর আলী বাদী হয়ে নিজ নিজ থানায় দুটি এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে ২৫ জন দলীয় নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডিসি আসমা শাহীনের প্রত্যাহার ও ইউএনও বরকত উল্লাহর বদলির আদেশ আসে। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

লালপুরে দায়ের করা এজাহারে অভিযুক্ত ১৮ জন হলেন: গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোলাম, বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিক আলী মিষ্টু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আজিজ রঞ্জু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. হারুন অর রশিদ পাপ্পু, চংধুপইল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান জুলহাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ উদ্দিন, কদিমচিলান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. আব্দুল বারী কাজল, কদিমচিলান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. হযরত আলী, দুয়ারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. শাহিনুর রহমান, আরবাব ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, কদিমচিলান ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হযরত আলী, চংধুপইল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইলিয়াস হোসেন, এবি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবেদ আলী, লালপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম রবি, পৌর বিএনপির মোহাম্মদ আলী আজম, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবীর সুইট, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান এবং পৌর যুবদলের মো. সুমন। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরও ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অন্যদিকে বাগাতিপাড়ায় দায়ের করা এজাহারে অভিযুক্ত সাতজন হলেন: উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক তারিক আজিজ, সদস্য আশিকুর রহমান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, বাগাতিপাড়া পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব আলী পান্না এবং উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সাব্বির হোসেন মুন্না। এখানে অজ্ঞাত আরও ১০০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়।

নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রমাণ থাকলে মামলা হতে পারে, তবে ঢালাওভাবে শীর্ষ নেতাকর্মীদের নাম জড়িয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ মামলা করা হয়েছে। কোনো নিরপরাধ নেতাকর্মীকে হয়রানির উদ্দেশ্য থাকলে তা গ্রহণযোগ্য নয়।

এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নাটোর জেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ শিশির ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সরকারি কার্যালয় ভাঙচুরের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ায় কর্মকর্তাদের বদলি মাঠ প্রশাসনের জন্য হতাশাজনক বার্তা দেয়।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) নাটোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ বলেন, আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে যদি কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার বা বদলি করা হয়, তবে তা মাঠ প্রশাসনের মনোবল ভেঙে দেবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পরিপন্থী হবে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

নাটোরে ইউএনও অফিসে হামলার এজাহারের পরদিনই ডিসি প্রত্যাহার ও ইউএনও বদলি

বিস্তারিত কমেন্টে