বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানায় আন্তর্জাতিক পরিসরে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার বেশি শক্তির এসব ভূমিকম্পে ইন্দোনেশিয়া, কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা ও জাপানে ব্যাপক প্রাণহানি এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সর্বশেষ গত শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, এতে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মাত্র ১৫ কিলোমিটার গভীরে, যার ফলে মাউমেরে বন্দর টার্মিনালসহ বহু ভবন ভেঙে পড়ে এবং উপকূলীয় এলাকায় সুনামি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে গত ১০ আগস্ট কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৫ জনে এবং আহত হয়েছেন প্রায় চার হাজার মানুষ। এছাড়া ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে পাঁচ সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। জাপান ও ফিলিপাইনেও ধারাবাহিক ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, পৃথিবীর ভূত্বকের টেকটোনিক প্লেটগুলোর অস্থির নড়াচড়া এবং ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলের সক্রিয়তার কারণেই বিশ্বজুড়ে একের পর এক ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটছে। দুর্যোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও যথাযথ পূর্বপ্রস্তুতি, ভবন নির্মাণবিধি মেনে চলা এবং দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থাপনাই পারে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় রুখতে।
kalprakash.com/IM