বিশ্বজুড়ে হালাল পণ্যের ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজার থাকা সত্ত্বেও একক সার্টিফিকেশন কর্তৃপক্ষের অভাবে আন্তর্জাতিক এই বাজারে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। দেশে পণ্য ও সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেবল আন্তর্জাতিক মানের একক হালাল সনদের ঘাটতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতার কারণে বিশাল রপ্তানি সম্ভাবনা হাতছাড়া হচ্ছে বলে মনে করছেন শীর্ষ ব্যবসায়ীরা।
বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) আলাদাভাবে হালাল সনদ দিচ্ছে। তবে দুটি সংস্থার ভিন্ন নীতি আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও আমদানিকারকদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে হালাল পণ্যের বৈশ্বিক বাজারের আকার প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০৩৪ সালের মধ্যে বেড়ে ৯ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। অথচ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হয়েও এই বিশাল বাজারে গত অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল মাত্র ৯৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
এফবিসিসিআই, ডিসিসিআই, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই), এমসিসিআই, এসএমই ফাউন্ডেশন ও বাপার মতো শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রযুক্তি ও গবেষণানির্ভর একক ‘হালাল সার্টিফিকেশন বোর্ড’ গঠনের জোর দাবি জানিয়ে আসছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ জানান, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ হালাল পণ্য রপ্তানি হয়েছে, তার সিংহভাগই কৃষিভিত্তিক ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য।
বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, ‘একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বৈশ্বিক হালাল বাণিজ্যে বাংলাদেশের শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং প্রয়োজন। মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ হালাল অর্থনীতিকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিপুল সাফল্য পেয়েছে। বাংলাদেশেও একটি একক ও শক্তিশালী হালাল সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠন করা গেলে তৈরি পোশাকের পর এটিই দেশের অন্যতম শীর্ষ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে পরিণত হতে পারে।’
kalprakash.com/IM