দেশের দেশি ও আন্তর্জাতিক এনজিওতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতে কর্মরতদের জন্য নির্ধারিত ‘প্রগতি’ স্কিমে এনজিওকর্মীদের বৃহৎ পরিসরে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর আয়োজনে নিবন্ধিত ২৫০টি দেশি-বিদেশি এনজিওর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম’ বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এর অঙ্গীকার অনুযায়ী বেসরকারি খাতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের বার্ধক্যকালীন আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিতে ‘পেনশন ফান্ড গঠন’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার উন্নয়ন দর্শনের ধারাবাহিকতায় একটি প্রকৃত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য, যেখানে প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হবে।” তিনি এনজিওগুলোর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘প্রগতি’ স্কিমে নিবন্ধনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান সর্বজনীন পেনশনের কাঠামো ও সুবিধা তুলে ধরে বলেন, “রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিযুক্ত এই পেনশন ব্যবস্থার আওতায় এনজিও ও বেসরকারি খাতের কর্মীরা ‘প্রগতি’ স্কিমে নিয়মিত চাঁদা জমা দিয়ে কর্মজীবন শেষে আজীবন নিশ্চিত মাসিক পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।”
এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) ডক্টর মোহাম্মদ জকরিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যুরোর পরিচালক ড. কে. এম. মামুন উজ্জামান এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য শেখ কামরুল হাসান।
উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে উপস্থিত এনজিও প্রতিনিধিরা পেনশন স্কিম নিয়ে বিভিন্ন বিষয় অবগত হন এবং তাঁদের প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের এই সুবিধার আওতায় নিয়ে আসার ব্যাপারে দৃঢ় আগ্রহ প্রকাশ করেন।
kalprakash.com/IM