শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬ | ৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৮ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | সকাল ৭:১৩:৩০

ব্যাটারি চার্জেই অবৈধ লেনদেন সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৫
শেয়ার: mail
ব্যাটারি চার্জেই অবৈধ লেনদেন সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর অলিগলি পেরিয়ে এখন ব্যস্ত রাজপথ দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে ১০ থেকে ১২ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা। চরম সড়ক বিশৃঙ্খলা, নিয়মিত প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এবং নিরাপত্তাঝুঁকির পাশাপাশি এই খাতের পেছনে গড়ে উঠেছে হাজার কোটি টাকার বিশাল এক অবৈধ অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শুধু ব্যাটারি চার্জ এবং চাঁদাবাজির রমরমা বাণিজ্যে বছরে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে, যার ওপর কোনো সরকারি নিয়ন্ত্রণ বা পর্যবেক্ষণ নেই।

বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকায় চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা সিপিডির হিসাবে প্রায় ২০ লাখ এবং অন্যান্য সংস্থার হিসাবে ১০ থেকে ১২ লাখ। এসব রিকশার চার্জিং বাবদই প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১০ কোটি টাকা লেনদেন হয়, যা মাসে ৩০০ কোটি এবং বছরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।

এ ছাড়া চালকদের নির্বিঘ্নে গাড়ি চালাতে স্থানীয় প্রভাবশালী ও পুলিশের কথিত লাইনম্যানদের প্রতিদিন দিতে হয় বিপুল অঙ্কের চাঁদা। মিরপুরের ভাসানটেক, মাটিকাটা ও কামরাঙ্গীরচরসহ বিভিন্ন এলাকার চালকদের তথ্য অনুযায়ী, কেবল রাজধানীতেই প্রতিদিন প্রায় ৬ কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়, যা রিকশায় লাগানো সিল ও কার্ডের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

বিদ্যুৎ খাতেও রয়েছে চরম অব্যবস্থাপনা ও চুরির অভিযোগ। রাজধানীর অন্তত ৭৬০টি চিহ্নিত গ্যারেজে আবাসিক সংযোগ বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করে অথবা সরাসরি বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ‘হুকিং’ করে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডের বিপুল বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর ‘সিস্টেম লস’ কৃত্রিমভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

একইসঙ্গে পরিবেশবিদরা লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির যত্রতত্র ব্যবহার ও ডাম্পিং নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সিপিডির তথ্য মতে, মানহীন এসব ব্যাটারির বিষাক্ত সীসা দূষণে দেশের প্রায় সাড়ে ৩ কোটি শিশু মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, অনুমোদন ছাড়া যত্রতত্র ব্যাটারি রিকশা তৈরি বন্ধে নির্দিষ্ট কিছু কারখানা নির্ধারণের নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “স্থানীয় সরকার কাঠামোর মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক লাইসেন্সিং ও নিবন্ধন চালু করা হলে একদিকে সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আয় নিশ্চিত হবে।” (সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন)

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

ব্যাটারি চার্জেই অবৈধ লেনদেন সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা

বিস্তারিত কমেন্টে