বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন—এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো রূপ নিয়েছে। বিএনপি থেকে তিনি রাষ্ট্রপতি মনোনীত হলে দলের শীর্ষ সাংগঠনিক কাঠামো ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বড় ধরনের রদবদল আসতে পারে।
ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে বিএনপির পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রার্থীর নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় তাঁকেই রাষ্ট্রপ্রধান পদে চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবার জাতীয় সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের পক্ষে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিশ্চিতে ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে।
এদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ ‘মহাসচিব’ হিসেবে কে দায়িত্ব পাবেন, তা নিয়ে চলছে হিসাব-নিকাশ। আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখা রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের নাম আলোচনায় থাকলেও তাঁরা বর্তমানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন। দলের পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাজ সামলাতে সরকারের বাইরে থাকা কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
এক দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ১১১টি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন এবং সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় কারাবাস ভোগ করেছেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও আসনে উপনির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
kalprakash.com/IM