বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে (ডিবি) এনে ভাত খাওয়ানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তৎকালীন ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের ওপর মারাত্মক ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপের বরাত দিয়ে এ তথ্য তুলে ধরেন।
প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালকে জানান, বিতর্কিত ওই ঘটনার পর ডিবি থেকে নিজের সম্ভাব্য বদলি ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন হারুন অর রশীদ। তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করে অনুরোধ জানান তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে কথা বলে তাঁর বদলি আদেশ যেন আটকে দেওয়া হয়।
ফোনালাপে হারুন ওবায়দুল কাদেরকে অত্যন্ত কাকুতি-মিনতি করে বলেছিলেন, “স্যার, এটা যদি এখন না করেন, তাহলে কিন্তু অর্ডার এখন করে দিবে স্যার। আমি নাই স্যার… ডিবিতে নাই স্যার।”
তবে হারুনের সেই চেষ্টা সফল হয়নি। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও ওবায়দুল কাদেরের মধ্যকার অন্য একটি ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে পেশ করে প্রসিকিউটর জানান, ওবায়দুল কাদের যখন হারুনকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন, তখন আসাদুজ্জামান খান জবাবে জানান—শেখ হাসিনা হারুনকে ডিবি থেকে সরানোর বিষয়ে সম্পূর্ণ অনড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একপর্যায়ে আসাদুজ্জামান খান নিজেই ওবায়দুল কাদেরকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, তিনি নিজে বিষয়টি শেখ হাসিনাকে বারবার বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই হারুন অর রশীদকে ডিবি থেকে সরিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। গণ-অভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এসব ফোনালাপ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে।
kalprakash.com/IM