ভারতের কেরালা রাজ্যের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তন করে ‘কেরালাম’ করতে লোকসভায় নতুন বিল উত্থাপন করছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। লোকসভার ঘোষিত কার্যসূচি অনুযায়ী, বহুল আলোচিত ‘কেরালা (অল্টারেশন অব নেম) বিল, ২০২৬’ নিম্নকক্ষে পেশ করা হবে।
এর আগে গত ১১ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছিলেন, কেরালার নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করেছে।
২০২৪ সালের ২৪ জুন কেরালা বিধানসভায় সর্বসম্মতভাবে রাজ্যের নাম ‘কেরালা’ থেকে বদলে মালয়ালম ভাষার মূল রূপ ‘কেরালাম’ করার প্রস্তাব গৃহীত হয়। পরবর্তীতে ভারতীয় সংবিধানের প্রথম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত রাজ্যের নামটি সংশোধনের জন্য কেন্দ্রকে অনুরোধ জানায় পি পিনারাই বিজয়ন নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার।
প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, ১৯৫৬ সালের ১ নভেম্বর ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের মূল প্রেরণা এবং মালয়ালমভাষী মানুষের ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটাতে নাম পরিবর্তন করা জরুরি।
ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩ অনুযায়ী, কোনো রাজ্যের নাম বা সীমানা পরিবর্তনের ক্ষমতা সংসদের এখতিয়ারভুক্ত। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি সংশ্লিষ্ট রাজ্য বিধানসভার আনুষ্ঠানিক মতামত পর্যালোচনা শেষে লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিল উত্থাপনের অনুমতি প্রদান করেন। সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিলটি পাস হলে কার্যকর হবে নতুন নাম।
রাজ্যের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও দেশটির বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা ও এমপি শশী থারুরসহ একাধিক বিশ্লেষক এটিকে নিছক ‘প্রতীকী রাজনীতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, নাম পরিবর্তনের চেয়ে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ ঋণভার, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সংকট নিরসন বেশি জরুরি।
সামনে বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাম পরিবর্তনের রাজনৈতিক কৃতিত্ব নিতে ক্ষমতাসীন দল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে নতুন টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি নথি, পাঠ্যপুস্তক, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হালনাগাদ সংক্রান্ত প্রশাসনিক ব্যয় এবং ‘কেরালাইট’ শব্দের পরিবর্তিত পরিচয় রূপায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠে এসেছে।
kalprakash.com/IM