প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারে অতিরিক্ত বিল আসার অভিযোগ প্রসঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে বুয়েটসহ একাধিক বিশেষজ্ঞ দল দিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়েছে এবং সেখানে কোনো কারিগরি ত্রুটির প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, যাদের অতিরিক্ত বিলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে যথাযথ প্রতিকার না পেলে সরকার বিষয়টি বিবেচনা করবে। তবে প্রিপেইড বা প্রিপেমেন্ট মিটারে অতিরিক্ত মিটার ভাড়া ও ডিমান্ড চার্জ নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়গুলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর করা হবে।
বর্তমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিগত সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের বদলে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল ছিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সিলারেট এনার্জি’ পরিচালিত একটি এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে আবাসন, শিল্প-কারখানা ও সিএনজি খাতে। বাধ্য হয়ে অনেকে বৈদ্যুতিক চুলা ও বিদ্যুৎভিত্তিক বিকল্প ব্যবহারে ঝুঁকছেন, ফলে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি জানান, সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যয়বহুল ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু রেখেছে। বন্ধ থাকা টার্মিনালটি ধাপে ধাপে সচল হলে এই সংকট দ্রুত কেটে যাবে। দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা সামলাতে স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর সরকার জোর দিচ্ছে।
বিশ্ববাজারের অস্থিরতা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতায় বিশ্বজুড়ে এলএনজি ও জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে, যা সার আমদানিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দেশের জনগণকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে আরও সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া ব্রিকস (BRICS) জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভূক্তি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কূটনৈতিক ও কৌশলগত দিকসমূহ বিবেচনা করে সরকার এ বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা সতর্ক করে জানান, সমালোচনা বা ট্রলে সরকার বাধা দেবে না, তবে মিথ্যা বক্তব্য ও ছবি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালালে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
kalprakash.com/IM