রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ায় এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে অপেক্ষমাণ (ওয়েটিং) তালিকার শীর্ষে থেকেও একটি মাত্র স্বাক্ষরের ভুলে চূড়ান্ত ভর্তির সুযোগ হারিয়েছেন এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থী বাণিজ্য (বি) ইউনিটের অধীনে একই দিনে পৃথক দুটি বিভাগে সাক্ষাৎকারের (ভাইভা) জন্য মনোনীত হন। সাক্ষাৎকার চলাকালে উপস্থিতিপত্রে তিনি ভুলবশত কেবল একটি বিভাগের তালিকায় স্বাক্ষর করেন। অন্য বিভাগের তালিকায় স্বাক্ষর না থাকায় কর্তৃপক্ষ তাঁকে অনুপস্তিত হিসেবে চিহ্নিত করে ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে আটটি শূন্য আসনের বিপরীতে ৫০ জন শিক্ষার্থীকে সাক্ষাৎকারের জন্য আহ্বান করা হয়। এতে ‘বি’ ইউনিটের আওতায় জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের একটি আসনের বিপরীতে ডাবল নাম থাকা সত্ত্বেও আলাদা আলাদা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের বিষয়টি অনেক শিক্ষার্থীর কাছে স্পষ্ট ছিল না।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “ভর্তি কেন্দ্রে আমাদের একটি উপস্থিতিপত্র দেওয়া হয় এবং আমি প্রথম পাওয়া তালিকায় স্বাক্ষর করি। যাদের একাধিক বিভাগে নাম রয়েছে, তাদের প্রতিটি বিভাগের পৃথক তালিকায় স্বাক্ষর করতে হবে—এমন কোনো আগাম নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে আমার মেধা অবস্থান পঞ্চম হলেও জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে আমি ওয়েটিং তালিকার এক নম্বরে ছিলাম। নিজ শহর রংপুরে হওয়ায় অন্য কোনো গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে চয়েস দিইনি। এখন একটি মাত্র স্বাক্ষরের ভুলের কারণে আমার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ভেস্তে যেতে বসেছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা জানান, জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে প্রায়ই আসন ফাঁকা থাকে। মানবিক দিক বিবেচনায় এনে ভর্তি কমিটি চাইলে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করতে পারত।
এ বিষয়ে ভর্তি কমিটির সদস্য ও জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, “প্রতিটি বিভাগের জন্য পৃথক উপস্থিতি তালিকা রাখা হয়েছিল এবং সে অনুযায়ী স্বাক্ষর নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট তালিকায় নাম ও স্বাক্ষর না থাকায় বিধি অনুযায়ী তাকে অনুপস্থিত ধরা হয়েছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জানান, বিষয়টি ডিনদের পরিচালনাধীন ছিল। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী লিখিত আবেদন জানালে উপাচার্য ও ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।
kalprakash.com/IM