মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬ | ১৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১৯ সফর, ১৪৪৮ | রাত ১:১১:৩২

সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় সাংবাদিক শফিকের জামিন, দেশজুড়ে আন্দোলনের পর আদালতের আদেশ

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:১০
শেয়ার: mail
সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় সাংবাদিক শফিকের জামিন, দেশজুড়ে আন্দোলনের পর আদালতের আদেশ

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ঢাকা প্রতিদিন-এর বিশেষ প্রতিবেদক হাফিজুর রহমান (এইচ আর শফিক) জামিন পেয়েছেন।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদের আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

জামিন শুনানিতে হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হায়দার রবিউল হোসাইন রবি, অ্যাডভোকেট নাদিম মাহমুদ এবং অ্যাডভোকেট আল মাহমুদ সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিকের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন।

এর আগে গত ২১ জুলাই শাহবাগ থানা পুলিশ সাইবার সুরক্ষা আইনের একটি মামলায় হাফিজুর রহমান শফিককে আটক করে। পরদিন ২২ জুলাই অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মোহাম্মদ জুনায়েদের আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তাঁর গ্রেপ্তারের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন এবং তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন এ ঘটনাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক উল্লেখ করে অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার ও তাঁর মুক্তি দাবি করে।

এর আগে ২২ জুলাই রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাধারণ সাংবাদিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ বলেন, একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের আগে আইনগত প্রক্রিয়া আরও সতর্কতার সঙ্গে অনুসরণ করা উচিত ছিল। তাঁর মতে, কোনো প্রতিবেদনের বিষয়ে আপত্তি থাকলে তার জবাব সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বা প্রয়োজন হলে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ ছিল।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক সমাজ কোনো অন্যায়ের পক্ষে নয়। তবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক। তিনি দ্রুত হাফিজুর রহমান শফিকের মুক্তি দাবি করেন এবং অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক সংগঠনগুলো তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিককে একই ধরনের আইনে গ্রেপ্তার করা অত্যন্ত হতাশাজনক।

তিনি বলেন, যে প্রতিবেদনের কারণে মামলা হয়েছে, সেখানে উত্থাপিত অভিযোগগুলোরও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি মামলা প্রত্যাহার এবং হাফিজুর রহমান শফিকের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সঠিক সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের মাঠপর্যায়ে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের কারণে যদি সাংবাদিকদের মামলা, গ্রেপ্তার বা হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়, তবে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য অশনিসংকেত। তারা বলেন, অপরাধের বিচার অবশ্যই হতে হবে, তবে মিথ্যা মামলা বা হয়রানির মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের কাউন্সিলর ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য মোহাম্মদ মাসুদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে নিজামুদ্দিন দরবেশ, রাজু আহমেদ, তালুকদার রুমি, ফখরুল ইসলাম, এইচ এম আল-আমিন, আমিনুল ইসলাম, তাপস, রাসেল, জিয়াউর রহমান, নুরুল আবছার, আকাশ মনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও ২৫ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তেজগাঁও কলেজ সাংবাদিক সমিতির আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতি আজিজুল ইসলাম যুবরাজ বলেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করলেই যদি সাংবাদিকদের গ্রেফতার করা হয়; তাহলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কোথায়? আমরা অবিলম্বে সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিকের নিঃশর্ত মুক্তি চাই।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ
সাংবাদিকদের একটি অংশের মতে, একজন সাংবাদিকের কলমে হাতকড়া পরানো কেবল একজন ব্যক্তির স্বাধীনতার প্রশ্ন নয়; এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংবিধানপ্রদত্ত মতপ্রকাশের অধিকারের সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাদের ভাষ্য, দুর্নীতি বা অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ কোনো অপরাধ নয়; বরং জনস্বার্থে সাংবাদিকতার অন্যতম দায়িত্ব।

তারা মনে করেন, সাংবাদিকদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বার্থে একটি কার্যকর সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward