উপকূলীয় অঞ্চলের সুপেয় পানির দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে সরকার ধাপে ধাপে প্রতিটি পরিবারের কাছে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংক পৌঁছে দেবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। পাশাপাশি সরকারি পুকুরগুলো পুনঃখনন ও সংস্কারের মাধ্যমে সেগুলোকে সংরক্ষিত মিঠা পানির স্থায়ী উৎস হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর চত্বরে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে বাস্তবায়িত রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং প্রকল্পের আওতায় দরিদ্র পরিবারের মধ্যে পানির ট্যাংক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার কারণে বিশুদ্ধ পানির সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। অনেক স্থানে টিউবওয়েলের পানিও পানের উপযোগী নয়। তাই বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তিনি জানান, জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় প্রথম ধাপে তিন হাজার পানির ট্যাংক বিতরণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে এদিন রামপালে ৮২টি অসচ্ছল পরিবারের হাতে পানির ট্যাংক তুলে দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে উপকূলের সব পরিবারকে এ সুবিধার আওতায় আনা হবে।
ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, শুধু ট্যাংক বিতরণ করেই দায়িত্ব শেষ হবে না। সরকারি পুকুরগুলো পুনরুদ্ধার করে নিরাপদ মিঠা পানির সংরক্ষণাগারে রূপান্তর করা হবে। এসব জলাধারে মাছ চাষ নিষিদ্ধ রাখা হবে, যাতে স্থানীয় মানুষ বছরের বিভিন্ন সময় নিরাপদ পানির উৎস হিসেবে এগুলো ব্যবহার করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় উপকূলীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নিরাপদ পানির সরবরাহ এবং টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন, রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাজীব আল রশিদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান তুহিন, সাবেক সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলাম জাহিদসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী অতি দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঘর নির্মাণের ঢেউটিন, নগদ অর্থ, খাদ্য সহায়তা এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংক বিতরণ করেন।
kalprakash.com/IM