মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬ | ১৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১৯ সফর, ১৪৪৮ | ভোর ৪:৪৯:৩৮

পাবিপ্রবিতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ, অসুস্থ শিক্ষার্থীকে রাজশাহী মেডিকেলে পাঠানো

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৩
শেয়ার: mail
পাবিপ্রবিতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ, অসুস্থ শিক্ষার্থীকে রাজশাহী মেডিকেলে পাঠানো

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ফার্মেসি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের (১৭ ব্যাচ) কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের (১৮ ব্যাচ) নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম মুশফিকুর রহমান তুহিন।

অভিযুক্ত সিনিয়র শিক্ষার্থীরা হলেন ফার্মেসি বিভাগের সোহানুর, সাকিব, জাহিদ, তানিম, ইউনুস, মুশফিক ও সাইদুরসহ আরও কয়েকজন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে ১৭ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী ১৮ ব্যাচের সব ছেলে শিক্ষার্থীকে বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যে বাংলা ক্লিনিক এলাকার একটি মেসে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেন।

নবীন শিক্ষার্থীরা সেখানে উপস্থিত হলে ১৭ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেন এবং বিভিন্ন ভুল ধরতে থাকেন। এ সময় তারা উচ্চস্বরে কথা বলেন, গালাগাল করেন এবং মানসিকভাবে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

একপর্যায়ে মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন মুশফিকুর রহমান তুহিন। তিনি অতিরিক্ত ঘামতে থাকেন এবং প্যানিক অ্যাটাকে আক্রান্ত হন। প্রথমে সিনিয়র শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ৮টার দিকে তাঁকে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক র‍্যাগিংয়ের অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক পুলিশকে অবহিত করেন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকরা পাবনা সদর হাসপাতালে উপস্থিত হন। শিক্ষার্থীর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রাত ১১টার দিকে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে ১৮ ব্যাচের একাধিক নবীন শিক্ষার্থী জানান, সিনিয়ররা তাদের মেসে ডেকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন। তবে শারীরিকভাবে কাউকে নির্যাতন করা হয়নি। তাদের দাবি, মুশফিক আগে থেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। মানসিক চাপের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সিনিয়র শিক্ষার্থীদের একাধিকবার ফোন করা হলেও কেউ সাড়া দেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, আমরা হাসপাতালে এসে প্রাথমিকভাবে র‍্যাগিংয়ের ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। আগামীকাল সকাল ১০টায় এ বিষয়ে জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward