মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬ | ১৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১৯ সফর, ১৪৪৮ | ভোর ৪:৫৭:৪৯

বিধি ভেঙে এসএসসি পরীক্ষার্থীর ৩ বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১১:১৮
শেয়ার: mail
বিধি ভেঙে এসএসসি পরীক্ষার্থীর ৩ বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড় সদর উপজেলার জগদল উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে বিধিবহির্ভূতভাবে এক পরীক্ষার্থীকে গোপনে তিনটি বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে মাত্র দুই ঘণ্টায় এ পরীক্ষা সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে অন্য পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ৭ জুন জগদল দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে। গোপনে পরীক্ষা দেওয়া ওই পরীক্ষার্থীর নাম তনুশ্রী দত্ত। সে সদর উপজেলার অমরখানা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী (রোল নম্বর: ২৬৫০২২)।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জগদল দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের কয়েকটি বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য আগামী ৮ ও ৯ জুন তারিখ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু তার একদিন আগেই, অর্থাৎ ৭ জুন তনুশ্রী দত্তকে কেন্দ্র সচিব আনিসুর রহমানের নির্দেশনায় দায়িত্বরত শিক্ষকদের অনুপস্থিতিতে সম্পূর্ণ গোপনে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

বিদ্যালয়ের ল্যাব সহকারী মিজানুর রহমানের তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রের একটি তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে তাকে এককভাবে বসিয়ে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের পরীক্ষণ খাতা এবং মৌখিকসহ মোট ৭৫ নম্বরের পরীক্ষা মাত্র দুই ঘণ্টায় সম্পন্ন করানো হয়। শুধু তাই নয়, নির্ধারিত ৯ জুন তারিখে তনুশ্রী পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল মর্মে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরও করেন ল্যাব সহকারী মিজানুর রহমান।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে প্রথমে উত্তেজিত হয়ে পড়েন অভিযুক্ত কেন্দ্র সচিব ও জগদল দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান। পরে তিনি দাবি করেন,

আর্থিক কোনো সুবিধা নেওয়া হয়নি, পরীক্ষার্থীর বাবা শুধু চা-নাস্তা খাইয়েছেন। মূলত ছাত্রীর বাবা এবং ওই ছাত্রীর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনুরোধেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তবে এককভাবে কোনো পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার জন্য শিক্ষা বোর্ড বা প্রশাসনের কোনো লিখিত আবেদন কিংবা অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি কেন্দ্র সচিব।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পঞ্চগড় সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফুল কবির মো. কামরুল হাসান জানান, এককভাবে কোনো পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নিতে হলে অবশ্যই পূর্বেই লিখিত আবেদন করতে হয় এবং তার যথাযথ কারণ ও অনুমোদন থাকতে হয়।

তিনি বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। বিধি ভেঙে এভাবে গোপনে পরীক্ষা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে নীতিমালা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

kalprakash.com/SAS

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward