পেরুর আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এবার রেকর্ড ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে সবচেয়ে আলোচনায় ছিলেন একজন—রাফায়েল লোপেজ আলিয়াগা, যিনি নিজেকে প্রকাশ্যে সবচেয়ে বেশি “ডোনাল্ড ট্রাম্পপন্থী” প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।
ডাকনাম “পর্কি” নামে পরিচিত এই ব্যবসায়ী ও সাবেক মেয়র শুরু থেকেই রেসের শীর্ষে ছিলেন। কট্টর ডানপন্থী অবস্থান নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সমর্থন, মাদকবাহী নৌকায় হামলা এবং অপরাধী চক্র দমনে মার্কিন সেনাবাহিনীর সহায়তার মতো প্রস্তাবও দেন।
তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রিপাবলিকান ঘরানার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে বলেও প্রচার করেন। এমনকি ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ এক রাজনৈতিক ব্যক্তির স্মরণসভাও আয়োজন করেছিলেন তিনি।
তবে নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে তার জনপ্রিয়তায় বড় ধস নামে। সর্বশেষ জনমত জরিপে দেখা গেছে, তার সমর্থন নেমে এসেছে মাত্র ৭ শতাংশে, যেখানে তার প্রধান ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী কেইকা ফুজিমোরি তাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছেন।
অন্যদিকে ফুজিমোরির প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্র বা ট্রাম্পের প্রসঙ্গ খুব একটা নেই। তার নীতিতে বরং “জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে” রাখার কথা বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লোপেজ আলিয়াগার অতিরিক্ত ট্রাম্প-নির্ভর প্রচারণা শেষ পর্যন্ত তার জন্য উল্টো ফল বয়ে আনছে। অনেক ভোটারই এখন তাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের সঙ্গে অতিরিক্তভাবে যুক্ত করে দেখছেন।
একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বৈদেশিক নীতি লাতিন আমেরিকায় তার জনপ্রিয়তা কমিয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের পুরনো প্রভাববাদী নীতি নিয়েও সমালোচনা বাড়ছে।
সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, পেরুর প্রায় অর্ধেক মানুষ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ওপর আস্থা হারিয়েছে, যা কয়েক বছর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
তবে পুরো নির্বাচনই যে ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে হচ্ছে তা নয়। বরং ভোটারদের প্রধান চিন্তা এখন অভ্যন্তরীণ সমস্যা—অপরাধ, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা।
পেরু গত এক দশকে একাধিক রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে, যেখানে অনেক প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ বা অভিশংসনের মুখে পড়েছেন। ফলে জনগণের বড় একটি অংশ এখন বড় পরিবর্তন চায়, কিন্তু সেটি যে ট্রাম্পপন্থী হবে—এমন নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্বাচন দেখিয়ে দিচ্ছে যে লাতিন আমেরিকায় “ট্রাম্প কার্ড” সবসময় রাজনৈতিক সুবিধা আনে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে তা ঝুঁকিও তৈরি করে।
সব মিলিয়ে পেরুর নির্বাচন এখন শুধু অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতির প্রভাব কতটা সীমিত হতে পারে—তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠছে।