বাংলাদেশ ১২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চিলি, ৬.৮ মাত্রার কম্পনে আতঙ্ক Logo পবিত্র হজ আজ, মিনায় লাখো হাজির সমাগম Logo বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা এডিবির Logo পে স্কেল বাস্তবায়নে ব্যয় কমিয়ে নতুন সমন্বিত পরিকল্পনা Logo নারায়ণগঞ্জে ভাইরাল মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে লাল গালিচায় বিদায় Logo পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যা মামলায় চার্জশিট, সোহেল-স্বপ্নার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ Logo এআই ট্রাফিক মামলা নিয়ে ভুয়া এসএমএসে প্রতারণা, সতর্ক করল ডিএমপি Logo পাকিস্তানি এমপিএ সাকিব চাধারের বিরুদ্ধে অভিনেত্রীর হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ Logo অস্ট্রেলিয়ার ভুয়া ভিসা চিঠি থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান, যাচাইয়ের নির্দেশনা দিল হাইকমিশন Logo মেডিকেল রিপোর্টে শঙ্কামুক্ত মেসি, বিশ্বকাপের আগে স্বস্তি আর্জেন্টিনা শিবিরে

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ, আমদানিনির্ভরতায় বাড়ছে বিদ্যুৎ ব্যয়

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনো খুবই সীমিত। মোট উৎপাদনের মাত্র ২.৩ শতাংশ আসে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে, যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ৩৩.৮ শতাংশ। একই সময়ে দেশের জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা বাড়তে থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে।

বুধবার প্রকাশিত ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)-এর ফসচারিং বাংলাদেশস এনার্জি ট্রানজিশন শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত চার বছরে প্রাথমিক জ্বালানি আমদানির হার ৪৭.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬২.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জীবাশ্ম জ্বালানি বাজারের দামের ওঠানামার প্রভাব সরাসরি দেশের বিদ্যুৎ খাতে পড়ছে।

মুদ্রার অবমূল্যায়ন, আমদানিকৃত জ্বালানির উচ্চমূল্য, ব্যয়বহুল পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং কম ব্যবহৃত বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য উচ্চ ক্যাপাসিটি পেমেন্ট—সব মিলিয়ে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। ২০২০-২১ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরের মধ্যে কয়লার দাম প্রায় ২৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও পরবর্তীতে দাম কমার পরও বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমেনি।

আইইইএফএর প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেসরকারি তেল ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে উচ্চ হারে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দিতে হয়েছে, যা ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। পাশাপাশি গ্যাস সংকটের কারণে অনেক কেন্দ্র কম সক্ষমতায় চালাতে হচ্ছে, ফলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাংলাদেশকে ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিল-জুন সময়ে এলএনজি আমদানিতে প্রায় ১.০৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ভর্তুকি দিতে হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির কম ব্যবহার দেশের জ্বালানি খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। বিশেষ করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎসহ বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য ব্যবস্থায় উচ্চ আমদানি শুল্ক এই খাতের সম্প্রসারণে বড় বাধা।

তবে ১০০ মেগাওয়াট ছাদ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে ফার্নেস অয়েল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন) কাঠামোর আওতায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে আইইইএফএ। নেপাল ও ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি বাড়ানো গেলে ২০৩০ সালের পর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস সাশ্রয় সম্ভব হতে পারে।

এছাড়া করপোরেট খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ওপেন অ্যাক্সেস ব্যয় কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সহজে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর হতে পারে।

প্রতিবেদনটি বলছে, বাস্তবসম্মত নীতি ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ কমাতে সক্ষম হবে।

kalprakash.com/SS

জনপ্রিয় সংবাদ

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চিলি, ৬.৮ মাত্রার কম্পনে আতঙ্ক

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ, আমদানিনির্ভরতায় বাড়ছে বিদ্যুৎ ব্যয়

প্রকাশিত: ০৪:২৩:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনো খুবই সীমিত। মোট উৎপাদনের মাত্র ২.৩ শতাংশ আসে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে, যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ৩৩.৮ শতাংশ। একই সময়ে দেশের জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা বাড়তে থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে।

বুধবার প্রকাশিত ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)-এর ফসচারিং বাংলাদেশস এনার্জি ট্রানজিশন শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত চার বছরে প্রাথমিক জ্বালানি আমদানির হার ৪৭.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬২.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জীবাশ্ম জ্বালানি বাজারের দামের ওঠানামার প্রভাব সরাসরি দেশের বিদ্যুৎ খাতে পড়ছে।

মুদ্রার অবমূল্যায়ন, আমদানিকৃত জ্বালানির উচ্চমূল্য, ব্যয়বহুল পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং কম ব্যবহৃত বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য উচ্চ ক্যাপাসিটি পেমেন্ট—সব মিলিয়ে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। ২০২০-২১ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরের মধ্যে কয়লার দাম প্রায় ২৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও পরবর্তীতে দাম কমার পরও বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমেনি।

আইইইএফএর প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেসরকারি তেল ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে উচ্চ হারে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দিতে হয়েছে, যা ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। পাশাপাশি গ্যাস সংকটের কারণে অনেক কেন্দ্র কম সক্ষমতায় চালাতে হচ্ছে, ফলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাংলাদেশকে ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিল-জুন সময়ে এলএনজি আমদানিতে প্রায় ১.০৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ভর্তুকি দিতে হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির কম ব্যবহার দেশের জ্বালানি খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। বিশেষ করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎসহ বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য ব্যবস্থায় উচ্চ আমদানি শুল্ক এই খাতের সম্প্রসারণে বড় বাধা।

তবে ১০০ মেগাওয়াট ছাদ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে ফার্নেস অয়েল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন) কাঠামোর আওতায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে আইইইএফএ। নেপাল ও ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি বাড়ানো গেলে ২০৩০ সালের পর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস সাশ্রয় সম্ভব হতে পারে।

এছাড়া করপোরেট খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ওপেন অ্যাক্সেস ব্যয় কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সহজে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর হতে পারে।

প্রতিবেদনটি বলছে, বাস্তবসম্মত নীতি ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ কমাতে সক্ষম হবে।

kalprakash.com/SS