ঢাকার কেরানীগঞ্জে মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাইসুল ইসলাম ও তাঁর বৃদ্ধ বাবা নজরুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে এই হামলার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত এহসানুর হক মাহিমকে (২২) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তানভীর আহমেদ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী রোববার (১২ এপ্রিল) দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর অভিযুক্ত এহসানুর হক মাহিমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাত পৌনে ৮টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কালিন্দী ইউনিয়নের মাদারীপুর সড়ক-২ এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত এহসানুর হক মাহিম (২২) দীর্ঘদিন ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাইসুল ইসলামের বাড়ির গলিতে আড্ডা ও মাদক সেবন করে আসছিল। এর প্রতিবাদ করায় তিনি এর আগেও ওই শিক্ষকের বৃদ্ধ বাবা মো. নজরুল ইসলামকে (৬৭) প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে নজরুল ইসলাম পুনরায় বাধা দিলে মাহিম ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে মাটিতে ফেলে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয়, এতে তাঁর বাম চোখের নিচে রক্তাক্ত জখম হয়। বাবাকে রক্ষা করতে অধ্যাপক রাইসুল ইসলাম এগিয়ে গেলে তাঁকেও লাঠি দিয়ে আঘাত ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এ সময় ওই শিক্ষকের চশমা ভেঙে ফেলা হয় এবং তাঁদের দুজনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এদিকে থানায় মামলা গ্রহণ না করে কেবল সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিয়ন ইসলাম বলেন, ঘটনার গুরুত্ব কমিয়ে জিডি করা হয়েছে, যা অপরাধীকে ছাড় দেওয়ার নামান্তর। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
শুক্রবার আসামিকে আদালতে তোলার সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক রাইসুল ইসলাম এ ঘটনায় যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
নুশরাত জাহান মীম, জবি প্রতিনিধি 























