বাংলাদেশ ০৯:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo মাদকসেবনে বাধা দেওয়ায় জবি শিক্ষকের ওপর হামলা, আসামি কারাগারে Logo গাইবান্ধায় ছেলেকে নিয়োগ দিতে মাদ্রাসা সুপারের জালিয়াতির অভিযোগ Logo পিরোজপুরে মাদকবিরোধী মোবাইল কোর্টে এক জনের কারাদণ্ড Logo লাশের পরিবর্তে লাশ: আমার বাবার মরদেহের পরিচয় পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছিল ঘাতকরা Logo পিরোজপুরে সদর উপজেলা স্কাউটসের ৫ দিনব্যাপী মহা তাবু জলসা সম্পন্ন Logo নওগাঁয় পুলিশের অভিযানে টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ আটক ১ Logo ছোট্ট মেহেরাবের চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক Logo পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি কেলেঙ্কারিতে আটক ১ Logo বড় ব্যবধানে জয়ী রুবেল, শেরপুর-৩ এ বিএনপির হাসি Logo বাগেরহাটে বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

লাশের পরিবর্তে লাশ: আমার বাবার মরদেহের পরিচয় পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছিল ঘাতকরা

আমার বাবা একজন মুসলিম, অথচ প্রভাবশালীদের নির্দেশে তাকে খ্রিস্টান ধর্মের পরিচয় দিয়ে দাফন করা হয়েছিল। আমরা কি বিচার পাব না? কেন আজও আমার বাবার খুনিরা প্রকাশ্যে ঘুরছে? এভাবেই কান্নায় ভেঙে পড়ে নিজের আর্তনাদ প্রকাশ করছিলেন মোংলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা মাহে আলমের সন্তান সুমন রানা।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে মোংলা পোর্ট পৌরসভা চত্বরে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে উঠে আসে এক মর্মান্তিক সত্য। ২০২৩ সালের এই দিনে নিখোঁজ হওয়া মাহে আলমের লাশটি পর্যন্ত প্রভাবশালী মহলের ইশারায় বদল করে ফেলা হয়েছিল। সচেতন নাগরিক সমাজ ও নিহতের স্বজনদের আয়োজিত এই মানববন্ধনে অংশ নিয়ে শত শত মানুষ মাহে আলম হত্যাকাণ্ডের বিচার ও লাশ গুমের সাথে জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানান।

২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল মোংলার পৌর মৎস্যজীবী দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহে আলমকে অপহরণের পর সুন্দরবনে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ১৩ এপ্রিল করমজল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হলেও শুরু হয় এক পৈশাচিক নাটক। তৎকালীন প্রভাবশালী মহলের নির্দেশে ৬৫ বছর বয়সী মুসলিম ব্যবসায়ী মাহে আলমের লাশটিকে ২২ বছরের খ্রিস্টান যুবক হিলটন নাথ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়। ভুয়া সুরতহাল রিপোর্টের মাধ্যমে তড়িঘড়ি করে তাকে খ্রিস্টান রীতিতে দাফন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তৎকালীন প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে নিহতের পরিবারকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়। দীর্ঘ সাত মাস পর ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে প্রমাণ হয় যে সেটি মাহে আলমেরই মরদেহ ছিল। পরবর্তীতে মরদেহ উত্তোলন করে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী মোংলা কবরস্থানে তাকে পুনরায় দাফন করা হয়। তারা বলেন, মরদেহের সাথে এমন প্রতারণা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

নিহতের ছেলে ও মামলার বাদী সুমন রানা অভিযোগ করে বলেন, আদালতের নির্দেশে থানা মামলা নিতে বাধ্য হলেও বর্তমানে পিবিআই তদন্তে গড়িমশি করছে। চিলার বনদস্যু বিল্লাল সর্দার ও তার ভাইপো বেলায়েত সর্দার আমার বাবাকে খুন ও লাশ গুমের প্রধান কারিগর। অবিলম্বে তাদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।

সুজন—সু শাসনের জন্য নাগরিক মোংলার সাধারণ সম্পাদক মো: নূর আলম শেখের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, নিহতের ছোট ভাই মো: জসিম উদ্দিন, সাবেক পৌর কাউন্সিলর খোরশেদ আলম, বিএনপি নেতা শাহাজান ফকির, বাবুল হোসেন রনি, মো: নাসির তালুকদার, গোলাম নূর জনি, বাবলু ভূঁইয়া, শ্রমিক নেতা আব্দুস সালাম ব্যাপারীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে তাদের একটাই দাবি—এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত শেষ করে খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হোক।

মানববন্ধনে উপস্থিত স্বজনদের বুকফাটা হাহাকার ও লাশের পরিবর্তে লাশ পাওয়ার যন্ত্রণার গল্পে উপস্থিত সাধারণ মানুষের চোখেও পানি চলে আসে। মোংলার আকাশ-বাতাস যেন আজ এক সুরে কাঁপছে—মাহে আলমের খুনিদের বিচার চাই।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

মাদকসেবনে বাধা দেওয়ায় জবি শিক্ষকের ওপর হামলা, আসামি কারাগারে

লাশের পরিবর্তে লাশ: আমার বাবার মরদেহের পরিচয় পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছিল ঘাতকরা

প্রকাশিত: ০৬:০৩:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

আমার বাবা একজন মুসলিম, অথচ প্রভাবশালীদের নির্দেশে তাকে খ্রিস্টান ধর্মের পরিচয় দিয়ে দাফন করা হয়েছিল। আমরা কি বিচার পাব না? কেন আজও আমার বাবার খুনিরা প্রকাশ্যে ঘুরছে? এভাবেই কান্নায় ভেঙে পড়ে নিজের আর্তনাদ প্রকাশ করছিলেন মোংলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা মাহে আলমের সন্তান সুমন রানা।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে মোংলা পোর্ট পৌরসভা চত্বরে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে উঠে আসে এক মর্মান্তিক সত্য। ২০২৩ সালের এই দিনে নিখোঁজ হওয়া মাহে আলমের লাশটি পর্যন্ত প্রভাবশালী মহলের ইশারায় বদল করে ফেলা হয়েছিল। সচেতন নাগরিক সমাজ ও নিহতের স্বজনদের আয়োজিত এই মানববন্ধনে অংশ নিয়ে শত শত মানুষ মাহে আলম হত্যাকাণ্ডের বিচার ও লাশ গুমের সাথে জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানান।

২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল মোংলার পৌর মৎস্যজীবী দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহে আলমকে অপহরণের পর সুন্দরবনে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ১৩ এপ্রিল করমজল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হলেও শুরু হয় এক পৈশাচিক নাটক। তৎকালীন প্রভাবশালী মহলের নির্দেশে ৬৫ বছর বয়সী মুসলিম ব্যবসায়ী মাহে আলমের লাশটিকে ২২ বছরের খ্রিস্টান যুবক হিলটন নাথ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়। ভুয়া সুরতহাল রিপোর্টের মাধ্যমে তড়িঘড়ি করে তাকে খ্রিস্টান রীতিতে দাফন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তৎকালীন প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে নিহতের পরিবারকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়। দীর্ঘ সাত মাস পর ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে প্রমাণ হয় যে সেটি মাহে আলমেরই মরদেহ ছিল। পরবর্তীতে মরদেহ উত্তোলন করে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী মোংলা কবরস্থানে তাকে পুনরায় দাফন করা হয়। তারা বলেন, মরদেহের সাথে এমন প্রতারণা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

নিহতের ছেলে ও মামলার বাদী সুমন রানা অভিযোগ করে বলেন, আদালতের নির্দেশে থানা মামলা নিতে বাধ্য হলেও বর্তমানে পিবিআই তদন্তে গড়িমশি করছে। চিলার বনদস্যু বিল্লাল সর্দার ও তার ভাইপো বেলায়েত সর্দার আমার বাবাকে খুন ও লাশ গুমের প্রধান কারিগর। অবিলম্বে তাদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।

সুজন—সু শাসনের জন্য নাগরিক মোংলার সাধারণ সম্পাদক মো: নূর আলম শেখের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, নিহতের ছোট ভাই মো: জসিম উদ্দিন, সাবেক পৌর কাউন্সিলর খোরশেদ আলম, বিএনপি নেতা শাহাজান ফকির, বাবুল হোসেন রনি, মো: নাসির তালুকদার, গোলাম নূর জনি, বাবলু ভূঁইয়া, শ্রমিক নেতা আব্দুস সালাম ব্যাপারীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে তাদের একটাই দাবি—এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত শেষ করে খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হোক।

মানববন্ধনে উপস্থিত স্বজনদের বুকফাটা হাহাকার ও লাশের পরিবর্তে লাশ পাওয়ার যন্ত্রণার গল্পে উপস্থিত সাধারণ মানুষের চোখেও পানি চলে আসে। মোংলার আকাশ-বাতাস যেন আজ এক সুরে কাঁপছে—মাহে আলমের খুনিদের বিচার চাই।